রাজ্যের খবর

মাস দুয়েকের মধ্যে ফের অগ্নিকাণ্ড তারাপীঠে! অভিজাত হোটেলে আগুন লেগে তুমুল আতঙ্ক

আগুন যেন পিছু ছাড়ছে না তারাপীঠে! ফের বিলাসবহুল হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ভোরের আলো ফুটতেই হুলস্থুল

Truth of Bengal: আগুন যেন কোনওভাবেই পিছু ছাড়ছে না বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলিতে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই ফের এক অভিজাত বেসরকারি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। তবে দমকল ও পুলিশের চরম তৎপরতায় এবার বড়সড় কোনও প্রাণহানি বা বড় বিপদ ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বিলাসবহুল ওই লজের দোতলার একটি ঘরের বিছানা থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। ঘটনাটির সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ।

ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় অবস্থিত সুপরিচিত ও খোলামেলা বেসরকারি লজ ‘গডস কাউন্টি’-তে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোর চারটে নাগাদ হঠাৎই লজের দ্বিতীয় তলায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং ২০১ নম্বর ঘরের বিছানা থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। একের পর এক ঘর ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় ঘরের ভেতর আটকে পড়া আবাসিক পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের মধ্যে চরম হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং পুলিশ বাহিনী। দমকলকর্মীদের ক্ষিপ্রতার দৌলতে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং লজের ভেতরে থাকা সমস্ত আবাসিককে অলৌকিকভাবে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন লজের দোতলার ২০১ নম্বর ঘরের বিছানা থেকে লেগেছিল, তবে এর নেপথ্যে শর্ট সার্কিট রয়েছে নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশাল এই বিলাসবহুল লজের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আইনানুগ ও কার্যকর ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখছেন আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসেই তারাপীঠের একটি বেসরকারি লজে ভোররাতে ভয়াবহ আগুন লেগে ৯ জন আবাসিক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এরপর রামপুরহাটের একটি হোটেলের রান্নাঘরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরপর এই জাতীয় দুর্ঘটনার কারণে জেলা প্রশাসনের তরফে হোটেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে একাধিক লজ বন্ধের নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার মাত্র দু’মাসের মাথায় ফের তারাপীঠের অভিজাত হোটেলে আগুনের ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও লজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

Related Articles