রাজ্যের খবর

হলদিয়ায় ৩০ আসনেই ক্লিন সুইপ করার টার্গেট! মমতাকে ‘খালি বাটি হাতে’ ফেরানোর হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর

৮০ জন বিধায়ক বা ২৮ জন সাংসদ, কাউকে ধরে রাখতে পারেননি মমতা! ঘর সামলানোর কড়া দাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর!

Truth of Bengal: আসন্ন হলদিয়া পুরসভা নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের জন্য একেবারে ১০০ শতাংশ জয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপুজো ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘খালি বাটি হাতে রাজ্যে ফেরানো’র তীব্র বার্তা দেন। আসন্ন পৌর নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, “নির্বাচনে ওদের খাতা পর্যন্ত খুলতে দেব না, বউনি করতে দেব না! আমার নাম করে লিখে রাখুন, রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবার আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।”

সোমবার তমলুকের উর্বর মাটি থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে একাধিক রণহুংকার ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন হলদিয়া পুরসভার মোট ৩০টি ওয়ার্ডের একটি আসনও বিরোধীদের না ছেড়ে সবকটিতেই পদ্মফুল ফুটিয়ে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “জেলার সমস্ত প্রান্তের কর্মীরা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। একটি আসনও ছাড়া যাবে না, ৩০টি আসনেই প্রতিপক্ষকে একদম শূন্য করে দিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার একেবারে বাটি হাতে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। উনি আমাদের রাজ্যের বহু ক্ষতি করে ফেলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও ক্ষতি করার সুযোগ না পান, সেই ব্যবস্থাই আমাদের করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে, আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত নির্বাচনগুলিতেই বিজেপি ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হবে।

এদিনের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নিজের দলটাকে ধরে রাখতে না পারার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায় একান্তভাবেই মমতার নিজের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “উনি অতীতে ৮০ জন বিধায়ক জিতিয়ে এনেছিলেন, কিন্তু নিজের দল ভাঙন থেকে রক্ষা করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতার দায় কি আমার ঘাড়ে চাপবে? কিংবা ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদকে উনি ধরে রাখতে পারলেন না, তার দায় কি আমাদের? নিজের ঘরটাই তো উনি সামলাতে পারছেন না, আবার বড় বড় কথা বলছেন!”

মমতাকে আক্রমণ করার প্রসঙ্গে এদিন তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী তথা দলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমের নামও টেনে আনেন শুভেন্দু। তীব্র শ্লেষের সুরে তিনি বলেন, “মমতার সবথেকে বড় ভক্ত ও অনুগামী ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি বলছেন যে, উনি ভক্তের চেয়েও রক্তকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন! এই ধরনের কথা শুনে আমার প্রশ্ন জাগে, ফিরহাদ হাকিম কি হঠাৎ বিজেপির কোনও নেতা হয়ে গেলেন নাকি আমাদের দলের নতুন কোনও মুখপাত্র পদে বসলেন?” পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, নিজের দলের ঘর আগে সামলান, তারপর যেন অন্য দিকে বা বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Related Articles