কলকাতা

দলীয় কর্মীর গ্রেফতারির প্রতিবাদে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় ধরনা কুণালের, বাইরে ‘চোর-চোর’ কটাক্ষ বিজেপি কর্মীদের, উত্তেজনা

মাঝরাতে জোড়াসাঁকো থেকে তৃণমূল নেতা মাজিদ আনসারি গ্রেফতার! আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় বসে কুণাল ঘোষের বিক্ষোভ ও ধুন্ধুমার

Truth of Bengal: পুরনো একটি মামলায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মাজিদ আনসারিকে গ্রেফতার করল জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। ২০২৩ সালের একটি পুরনো শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি ও কটূক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার ধৃত নেতাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে পেশ করা হয়। তবে গ্রেফতারের পরেই মাজিদের সাফ দাবি, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার অপরাধেই তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এই গ্রেপ্তারির খবর চাউর হতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ সোজা আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন। তাঁর তীব্র অভিযোগ, চোরবাগান মর্মান্তিক কাণ্ড নিয়ে যারা সোচ্চার হচ্ছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন, বেছে বেছে সেই সমস্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরই পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হচ্ছে। থানার সিঁড়ির ওপর সটান বসে পড়ে কুণাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একেবারেই ভুয়ো ও ভিত্তিহীন অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের তুলে আনা হচ্ছে, অথচ আসল অপরাধীরা দিব্যি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে!” দীর্ঘক্ষণ ধরে থানার বাইরে ও সিঁড়িতে তাঁর এই অবস্থান বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত থানার ওসি স্বয়ং বেরিয়ে এসে কুণাল ঘোষকে বুঝিয়ে বুনিয়ে থানার ভেতরে নিয়ে যান। এই পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়ে যায়।

এদিকে, কুণাল ঘোষের এই থানায় উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। বিজেপির দাবি, কুণালবাবু তো ওই এলাকার বিধায়ক নন, তা হলে তিনি কেন থানায় এসে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন? বিজেপি কর্মীদের স্পষ্ট অভিযোগ, কুণাল ঘোষ আসলে “দেশ বিরোধীদের” বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তাঁকে এক হাত নিয়ে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ শানায় গেরুয়া শিবির। থানা চত্বর থেকেই অবিলম্বে কুণালকে বের করে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাজিদের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানিয়েছেন যে ঘটনার দিন তাঁর মক্কেল দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন এবং এই অভিযোগের সপক্ষে পুলিশের কাছে কোনও প্রমাণ নেই। জামিনের আবেদন জানানো হলেও সব মিলিয়ে মাজিদ আনসারির গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার রাজপথ।

Related Articles