দেশ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়, মৌলিক অধিকার রয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট

বয়সের অজুহাতে সেই অধিকার খর্ব করা যুক্তিসঙ্গত নয়

Truth of Bengal: শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা উচিত নয়। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার শিশুদেরও রয়েছে। বয়সের অজুহাতে সেই অধিকার খর্ব করা যুক্তিসঙ্গত নয়। শিশুদের অনলাইন ব্যবহার সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি, ভিডিয়ো এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়বস্তুর প্রচার বন্ধ করতে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি চন্দ্রনের বেঞ্চ জানায়, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং তথ্য পাওয়ার অধিকারও সেই পরিসরের অন্তর্ভুক্ত। বয়স নির্বিশেষে শিশুরাও এই অধিকার ভোগ করে। তাই তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান হতে পারে না বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি, ভিডিয়ো এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আটকানোর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বেআইনি বিষয়বস্তু শনাক্ত করা এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে সে সম্পর্কে জানানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট পরিষেবা ও সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলি যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না। এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮ বছরের কমবয়সিদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানায় কেন্দ্র। তবে বয়সের ভিত্তিতে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার অবস্থানে আপত্তি জানায় শীর্ষ আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও তার অর্থ এই নয় যে তাদের স্বাধীনতা খর্ব করতে হবে। নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়, বরং দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করতে হবে। আইন করে ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেই শিশুরা অনলাইন দুনিয়া থেকে দূরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উল্টে, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে তারা অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক ওয়েবসাইটের দিকে ঝুঁকতে পারে। এমনকি অনলাইনে হুমকি, প্রতারণা বা প্রলোভনের শিকার হলেও নিষেধাজ্ঞা ভাঙার ভয় থেকে শিশুরা অভিভাবকদের কাছে মুখ খুলতে দ্বিধা করতে পারে। ফলে সমস্যার সমাধানে কেবল নিষেধাজ্ঞার উপর নির্ভর না করে সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত।

শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি ও ভিডিয়োর অনলাইন প্রচার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ধরনের নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলিকে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

Related Articles