দেশ

ক্যানসার রোগীদের জন্য মোদী সরকারের মেগাউপহার! ওষুধের দাম কমছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত

রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার এবং নিয়মিত ওষুধের খরচ সামলাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়েন বহু পরিবার

Truth of Bengal: ক্যানসারের মতো মারণরোগের চিকিৎসায় বিপুল খরচের বোঝা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের। এবার ক্যানসারের ওষুধের দামে লাগাম টানতে উদ্যোগী হল মোদি সরকার। নির্দিষ্ট ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা এমআরপির উপর ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু ওষুধের দাম ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে অনুমান। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের বছরে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। ক্যানসার চিকিৎসার বিপুল ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে উদ্বেগের কারণ। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার এবং নিয়মিত ওষুধের খরচ সামলাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়েন বহু পরিবার। বিশেষ করে জীবনদায়ী ওষুধের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ।

সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, গত ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি বা এনপিপিএ-র বৈঠকে ক্যানসারের ওষুধের ট্রেড মার্জিন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত যেসব ক্যানসারের ওষুধ বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যনিয়ন্ত্রণের তালিকার বাইরে রয়েছে, সেগুলির অতিরিক্ত মুনাফায় রাশ টানাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, কোন কোন ওষুধ এই নতুন নিয়মের আওতায় আসবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সেই তালিকা চূড়ান্ত হবে। পরবর্তী সময়ে বাজারের পরিস্থিতি, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা এবং জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নতুন ওষুধও তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। এর আগে ক্যানসারের ওষুধের দামের অস্বাভাবিক ফারাক নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের সামনে এমন তথ্য উঠে আসে, যেখানে মাত্র ২,৭০০ টাকায় সরবরাহ করা একটি ওষুধের এমআরপি রাখা হয়েছে ২৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরবরাহমূল্যের প্রায় দশ গুণ দামে সেই ওষুধ রোগীদের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত ও মূল্যায়নে আরও জানা গিয়েছে, কিছু ক্যানসারের ওষুধে ট্রেড মার্জিন গড়ে প্রায় ১৭০ শতাংশ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ৭০০ শতাংশ বা তারও বেশি। অভিযোগ, বেশি মুনাফা পাওয়া যায় এমন ব্র্যান্ডের ওষুধ বিক্রিতে উৎসাহ দেখান কিছু বিক্রেতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে একই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। এই ধরনের ব্যবসায়িক প্রবণতা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে শুধু ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করলেই চলবে না বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের প্রশ্ন, অন্যান্য জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ক্ষেত্রেও যখন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে, তখন সেগুলির জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন? হৃদ্‌রোগের স্টেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর দামের বিপুল ব্যবধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। এই বিষয়ে কেন্দ্রকে আরও বিস্তৃত মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী ২৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। তবে ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে সীমিত করার অর্থ সব ক্যানসারের ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ কমে যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ওষুধের বর্তমান মূল্য এবং মুনাফার হারের উপর নির্ভর করবে প্রকৃত দাম কতটা কমবে। নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হওয়ার পরই রোগীরা তার সরাসরি সুবিধা পাবেন।

Related Articles