উৎসবের মুখে সুখবর! ২ হাজার টাকার অনলাইন লেনদেনে আপাতত বসছে না বাড়তি ফি
বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও নতুন নিয়ম চালুর সময় নিয়ে আপত্তি জানায়
Truth of Bengal: দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। ছোট দোকান থেকে বড় শপিং মল, অনলাইন কেনাকাটা থেকে দৈনন্দিন বিল মেটানো—সর্বত্রই ইউপিআই এখন অন্যতম জনপ্রিয় লেনদেনের মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে ২০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে নতুন এই ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করে এনপিসিআই। ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই ব্যবসায়ী মহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মতো উৎসবের সময়ে বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা হয়। সেই সময় ডিজিটাল পেমেন্টের উপর অতিরিক্ত খরচ চাপলে ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও নতুন নিয়ম চালুর সময় নিয়ে আপত্তি জানায়।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ২০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ হারে এমডিআর দেওয়ার কথা ব্যবসায়ীদের। অর্থাৎ কোনও গ্রাহক ১০ হাজার টাকার কেনাকাটা করে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে বিল মেটালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর উপর ৪০ টাকা এমডিআর ধার্য হতে পারত। তবে প্রতি লেনদেনে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছিল ৩০০ টাকা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক আগেই স্পষ্ট করেছিল, এই এমডিআর সাধারণ গ্রাহকদের উপর সরাসরি চাপানো যাবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআই লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই থাকবে। পাশাপাশি ছোট অঙ্কের অধিকাংশ বাণিজ্যিক লেনদেনও এই চার্জের আওতার বাইরে থাকবে। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়, নতুন ফি চালু হলে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের খরচ বাড়বে। বিশেষ করে উৎসবের বাজারে বড় অঙ্কের কেনাকাটার ক্ষেত্রে সেই ব্যয় ব্যবসার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। কোথাও কোথাও নগদ লেনদেনের প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ার আশঙ্কাও সামনে আসে।
এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি। উৎসবের মরশুমের কথা বিবেচনা করে এমডিআর কার্যকরের সময় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনপিসিআই জানিয়েছে, দীপাবলির পর নতুন ফি চালুর তারিখ আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে। তবে ঠিক কবে থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। ফলে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কি না, তা নিয়েও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ইউপিআইয়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেন। সেই কারণে এর পরিষেবা ব্যয় এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।






