তিন মাস পর অবশেষে জেলমুক্তি! পুজোর মুখেই কলকাতা হাই কোর্টে জামিন সব্যসাচী দত্তের
মঙ্গলবার তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট বলে খবর
Truth of Bengal: দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। তোলাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট বলে খবর। দুর্গাপুজোর আগেই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে আইনি লড়াইয়ে স্বস্তি পাননি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। ফলে এবারের দুর্গাপুজোয় জেলেই থাকতে হচ্ছে সুজিতকে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত জুন মাসে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে। ৮ জুন গভীর রাতে রাজারহাটের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তারপর থেকেই সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। জামিনের আবেদন জানিয়ে একাধিকবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সব্যসাচী। অবশেষে পুজোর মুখে অন্তর্বর্তী জামিনের খবরে তাঁর রাজনৈতিক অনুগামীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৮ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা। অভিযোগ অনুযায়ী, সব্যসাচী নিজে সরাসরি টাকা না চেয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন। এমনকি চাপের মুখে দাবিকৃত টাকার মধ্যে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী। শুধু অর্থ আদায়ের অভিযোগই নয়, ব্যবসায়ীকে মানসিকভাবে হেনস্তা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগও সামনে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। যদিও গ্রেফতারির পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একাধিক নতুন তথ্য সামনে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নদিয়ার এক তৃণমূল নেত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত চলাকালীন তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের খবরও সামনে আসে। যদিও ওই সোনার সঙ্গে তোলাবাজির মামলার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকার পর সব্যসাচীর জামিনের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পুজোর আগেই তাঁর মুক্তির পথ খুলতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার অর্থ মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। তাঁর বিরুদ্ধে চলা অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। অন্যদিকে, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় আপাতত সংশোধনাগারেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। একসময় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত সুজিতের এবারের পুজো তাই কাটবে কারাগারেই।






