অমিত শাহর দরবারে সুদীপ-নয়না, মমতার হাত ছাড়ছেন আরও এক বিধায়ক?
স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে 'শাহি' সাক্ষাৎ নয়নার, দলবদল কি সময়ের অপেক্ষা?
Truth of Bengal: ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ কি আরও দুর্বল হতে চলেছে? সম্প্রতি দিল্লির রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া এক হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ ঘিরে এখন তেমনই জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে লোকসভায় বড় পদ পাওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তাঁর বিধায়ক স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সোজা পৌঁছে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দরবারে। নয়না বর্তমানে চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু হঠাৎ স্বামীর সঙ্গে তাঁর এই ‘শাহি’ সাক্ষাৎ নতুন এক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে, তবে কি এবার মমতার শিবির ছাড়তে চলেছেন নয়নাও?
অতীতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উত্তর কলকাতা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন, তখনই দলের অভ্যন্তরে ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্ত্রী নয়নাকে নিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে চরম জলঘোলা হয়েছিল। সেসময় অভিযোগ ওঠে, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে স্ত্রীকেও পদ্মশিবিরের কাছাকাছি নিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করছেন সুদীপ। যদিও সেই সময়ে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সব চর্চাকেই উসকে দিয়েছিল সুদীপ-নয়না জুটি।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুদীপ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই শিবিরে। এর আগে স্বামীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নয়না স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সুদীপের রাজনৈতিক পদক্ষেপ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং তিনি নিজে শেষ পর্যন্ত মমতার পাশেই রয়েছেন। এমনকী সাম্প্রতিক একাধিক দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে বোমা ফাটান। তিনি প্রকাশ্যে জানান, সম্প্রতি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে নয়না নিজেই শাহকে জানিয়েছেন যে, চব্বিশ বা ছাব্বিশের কঠিন রাজনৈতিক হাওয়া সামলে কীভাবে তিনি অত্যন্ত কষ্ট করে চৌরঙ্গি আসনটি জিতেছিলেন। এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জল্পনা জোরালো হচ্ছে, তাহলে কি স্বামীর পথ ধরে নয়নাও এবার মমতা শিবিরকে গুডবাই জানাতে চলেছেন? তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, একের পর এক বিধায়কের এমন দোলাচল নিঃসন্দেহে মমতা শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।






