রাজ্যের খবর

সিউড়ির পার্টি অফিসে ‘জনরোষের’ শিকার অনুব্রত, কলার ধরে শাসানি, চ্যালাকাঠ নিয়ে তাণ্ডব

"ফের এলে একেবারে দেখে নেব!", কেষ্টর ডেরায় ঢুকেই তাণ্ডব, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন 'বীরভূমের বাঘ'

পার্থ দাস, বীরভূম: একদা ‘বীরভূমের বাঘ’ অনুব্রত মণ্ডলের উপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য সিউড়িতে! বুধবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির বিপুল জয়ের পর সিউড়ির তৃণমূল পার্টি অফিসে প্রথমবার পা রাখতেই তীব্র জনরোষের মুখে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল। সিউড়ি পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর চোখের সামনেই তাণ্ডব চালাল তিন ক্ষুব্ধ যুবক। ভাঙচুর চালানো হল পার্টি অফিসের এসি, কাচের জানলা, টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে সমস্ত আসবাবপত্রে। ঘটনায় সামান্য আহত হয়েছেন অনুব্রত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষমেশ পুলিশি নিরাপত্তায় কড়া এসকর্ট ভ্যানে করে সিউড়ি ছেড়ে বোলপুরের দিকে যেতে বাধ্য হন ঋতব্রত শিবিরের নেতা অনুব্রত।

বুধবার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে সিউড়ির জেলা কার্যালয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই সময় আচমকা গাছের মোটা ডাল ও লাঠি হাতে তিন যুবক পার্টি অফিসে ঢুকে পড়েন। অনুব্রতের উপস্থিতিতেই উগ্র মেজাজে আসবাবপত্র ভাঙতে শুরু করেন তাঁরা। এমনকি অনুব্রতের ঠিক সামনে থাকা কাচের টেবিলেও সজোরে আঘাত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অনুব্রতকে সরাসরি শারীরিক মারধর করা না হলেও, কাচের টুকরো ছিটকে এসে সামান্য আহত হন তিনি। যাওয়ার সময় অনুব্রতকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে দুষ্কৃতীরা বলে, “ফের এই এলাকায় এলে একবারে দেখে নেওয়া হবে!”

এই তাণ্ডবের খবর পেতেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ওই তিন যুবককে আটক করে। কেন এই হামলা? পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই যুবকেরা সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় অনুব্রত ও তাঁর বাহিনীর চরম অত্যাচার ও শোষণে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলাম। সাধারণ মানুষের ওপর চালানো অবিচারের রাগের বহির্প্রকাশ ঘটেছে আজ।” যদিও অভিযুক্তরা দাবি করেছেন তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় উপস্থিত তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, তাঁদের মুখে সজোরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা গিয়েছে।

Related Articles