‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর পথে বাংলাই কি আসল চালিকাশক্তি? কলকাতায় আয়োজিত মেগা সেমিনার
আয়োজিত এই সেমিনারে একমঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের নীতি-নির্ধারক, শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, পেশাদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা
Truth of Bengal: ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, সেই রূপরেখা নিয়েই কলকাতায় আয়োজিত হল উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব ও জ্ঞান-বিনিময়মূলক সেমিনার ‘Rise Bengal – Powering the Journey Towards Viksit Bharat @ 2047’। দ্য ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া বা আইসিএমএআই-এর উদ্যোগে রাজকুটির কলকাতায় আয়োজিত এই সেমিনারে একমঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের নীতি-নির্ধারক, শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, পেশাদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত। সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন ও কৃষি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু এবং বিধায়ক সিএমএ (ড.) রাজেশ কুমার।

সেমিনারের মূল আলোচনার বিষয় ছিল—পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, শিক্ষা, নগরোন্নয়ন, পর্যটন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদের সম্ভাবনাকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়। বক্তাদের মতে, এই ক্ষেত্রগুলির পরিকল্পিত উন্নয়ন শুধু বাংলার অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা নেবে। আলোচনায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ ও উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দেওয়া, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উদ্ভাবনের উপর জোর দেওয়া এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে সরকার, শিল্পমহল, পেশাদার এবং শিক্ষাজগতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেমিনারের বক্তাদের মতে, উন্নয়নের লক্ষ্যকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করতে হলে শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিমাপযোগ্য ফল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের মতো বড় ও সম্ভাবনাময় রাজ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সিএমএ-দের পরিবর্তিত ভূমিকা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সিএমএ-রা শুধু হিসাবরক্ষণ বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। খরচ নিয়ন্ত্রণ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, আর্থিক কৌশল নির্ধারণ, টেকসই উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁদের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।ভারত যত বড় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগোবে, ততই ব্যয়, সম্পদ এবং কর্মদক্ষতা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ পেশাদারদের গুরুত্ব বাড়বে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।

ICMI-এর নেতৃত্বও এদিন জানায়, সরকার, শিল্পক্ষেত্র এবং পেশাদার সমাজের মধ্যে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা নিয়মিত এমন মঞ্চ তৈরি করতে চায়। দেশের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে পেশাদার দক্ষতাকে যুক্ত করাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেমিনারের শেষে ‘Rise Bengal’ বার্তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বক্তাদের মতে, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি ক্ষেত্রকেই নিজের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, বিনিয়োগবান্ধব, উদ্ভাবনী এবং টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা গেলে জাতীয় উন্নয়নেও তার বড় প্রভাব পড়বে। ‘Rise Bengal’ তাই শুধু পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আহ্বান নয়, বরং দেশের বৃহত্তর বিকাশযাত্রায় বাংলার সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করারও এক যৌথ বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।





