দেশ

অ্যান্টিলিয়ায় আতিথেয়তা, অম্বানির হাতে কালীঘাটের মা কালী! মুম্বই পৌঁছেই বিরাট চমক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শিল্পে আসবে বাঁধভাঙা জোয়ার! অম্বানিদের বাসভবনে হাইভোল্টেজ বৈঠকে কী আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের চাকা দ্রুতগতিতে ঘোরাতে এবং রাজ্যকে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বাণিজ্য নগরী মুম্বই পৌঁছে সরাসরি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে অম্বানিদের বাসভবনে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে বাংলায় রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ব্যবসার পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিসহ একাধিক নতুন ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতেই সৌজন্যের প্রতীক হিসেবে মুকেশ অম্বানি ও অনন্ত অম্বানির হাতে কালীঘাটের মা কালীর একটি সুদৃশ্য পবিত্র মূর্তি উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বৃহৎ শিল্পায়ন ও সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় যে সমস্ত শিল্পপতিরা বিগত আমলের তোলাবাজি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁদের পুনরায় ফিরিয়ে আনাই নতুন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় অম্বানিদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সূত্রের খবর, বৈঠকে রিটেল, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং সবুজ শক্তি (Green Energy) ছাড়াও বাংলায় একটি আধুনিক লজিস্টিক হাব ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংক্রান্ত সামাজিক প্রকল্পে রিলায়েন্সকে বিনিয়োগের বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সফল ১০০ দিন পূর্তিতে এক বিশেষ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন, “আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হল, শিল্পে নতুন গতি, স্বাস্থ্যের নতুন সুরক্ষা, শিক্ষার নতুন দিশা, সুশাসনে নতুন আস্থা, সেবার নতুন নিশ্চয়তা এবং সুরক্ষার নতুন বিশ্বাস।”

অ্যান্টিলিয়া বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার পরেই শিল্প পরিবেশ আমূল বদলে গিয়েছে। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের দিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “বাংলায় এখন গুন্ডা ট্যাক্স ও তোলাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। তৃণমূলের অরাজকতা শেষ হওয়ায় রাজ্য ও রাজ্যের মানুষ বেঁচে গিয়েছে, আর তাই বিমুখ শিল্পপতিরা সানন্দে বাংলায় ফিরছেন।” একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জানান, বাংলায় টাটা গোষ্ঠীকেও সসম্মানে ফেরানো হবে এবং আগামী দিনে একের পর এক বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠে রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দেবে।

Related Articles