দল ও প্রতীক গেলেও তহবিল হাতছাড়া হচ্ছে না! হাইকোর্টে রাজ্যের আর্জি খারিজ, বড় জয় মমতার শিবিরের
কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কান দিল না হাইকোর্ট! কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে স্বস্তির রায় বিচারপতির
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন অন্তর্বর্তী নির্দেশে অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের ময়দানে এবার বড়সড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির! প্রতীক ও নাম ফ্রিজ হয়ে গেলেও দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তহবিলের ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার আপাতত মমতা তৃণমূলের হাতেই রইল। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশের দোহাই দিয়ে রাজ্য সরকারের করা আর্জিকে গুরুত্ব দিলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কমিশনের নির্দেশটি নিতান্তই অন্তর্বর্তীকালীন, তাই উচ্চ আদালত তার পূর্ববর্তী রায়তেই অটল থাকবে।
সোমবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের সাময়িক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, কিন্তু কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি। ফলস্বরূপ, কমিশনের ওই সাময়িক বার্তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পূর্বের দেওয়া নির্দেশাবলী থেকে সরবে না। আদালতের ঘোষিত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুসারেই আগামী ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলের বিশেষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তহবিল থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় টাকা খরচের অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের কাছেই সুরক্ষিত থাকবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) রাজদীপ মজুমদার। রাজ্যের তরফ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, মামলাটি মূল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামে দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত ওই নামে কোনও অনুমোদিত দল নেই এবং নাম-প্রতীক উভয়ই ফ্রিজ করা হয়েছে। এই অবস্থায় কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মূল মামলাটি আইনত আর গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজ্য সরকার আরও সতর্ক করে যে, আদালত এখন হস্তক্ষেপ করলে পরবর্তীতে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে আদালত রাজ্যের এই সওয়াল গ্রহণ করেনি।
উল্লেখ্য, বেআইনি ও বিতর্কিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে লালবাজার পুলিশ একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি মূল অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ফ্রিজ করে দিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি সামলানোর জন্য একজন বিশেষ কোর্ট অফিসার নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, দলীয় দৈনিক কাজকর্ম ও কর্মীদের বেতন মেটানোর জন্য কালীঘাট তৃণমূলই প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করবে। সোমবার সেই নির্দেশের মেয়াদ বহাল রাখার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টগুলির কথিত অবৈধ লেনদেনের তদন্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে পেশ করে পুলিশ প্রশাসন।






