রাজ্যের খবর

‘বিজেপির কথায় পুলিশি হেনস্থা!’ রেজিনগর উপনির্বাচনের মুখে কমিশনে নালিশ হুমায়ুন কবীরের

হুমায়ুনের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তার ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে

Truth of Bengal: রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার পুলিশি ধরপাকড় ও দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার মাঠে নেমে প্রচার না করার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়ে কমিশনে চিঠি পাঠালেন। হুমায়ুনের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তার ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দলের কর্মীরা প্রচারে নামলেই তাঁদের বিরুদ্ধে পুরনো বা মিথ্যা মামলা তুলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। প্রতিবাদেই আপাতত মাঠে-ময়দানে প্রচার থেকে সরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমাজমাধ্যমে দলের প্রচার চলবে।

নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নির্বাচনী প্রচার ব্যাহত করতে বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসি-রা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। বেলডাঙা-১ ব্লক সভাপতি মুনাইম শেখ এবং দলের রাজ্যস্তরের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। জাল নোট ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় দলীয় নেতাদের ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন হুমায়ুন। তবে এই অভিযোগগুলি তাঁর পক্ষের দাবি; পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিঠিতে বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, বেলডাঙা থানার আইসি এবং রেজিনগর থানার ওসিকে সরানোর দাবিও জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, ভোটের সময়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ করা উচিত নয়।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সোমবার বহরমপুর থানায় হাজিরা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। একটি ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে তাঁকে তলব করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ওই কথোপকথনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে এবং কথোপকথনের এক প্রান্তে হুমায়ুন ছিলেন। যদিও অডিয়োটির সত্যতা এখনও বিচারাধীন এবং হুমায়ুন অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি থানায় হাজির হন। ১৪ সেপ্টেম্বর ওই অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বহরমপুর থানায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রয়োজনে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনাও সংগ্রহ করা হতে পারে। রেজিনগরের উপনির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবী আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। তবে রবিবার হুমায়ুন জানান, তিনিও আপাতত প্রকাশ্য প্রচারে নামবেন না। মাঠের প্রচারের বদলে সমাজমাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

Related Articles