রাজ্যের খবর

পুজোর আগেই বিজেপিতে এনসিপিআই-এর ১৭ সাংসদ! জগদীশের দাবি নিয়ে পাল্টা তোপ শমীকের

"ওঁরা মঙ্গল গ্রহের বিজেপিতে ঢুকছেন নাকি?" দলবদলের ধামাকা জল্পনায় জল ঢেলে দিল শমীক ভট্টাচার্যের কড়া তোপ!

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে এনসিপিআই (NCPI) শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে নতুন করে গৃহযুদ্ধ ও মহা-নাটক শুরু হল বঙ্গ রাজনীতিতে। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া সোমবার বিস্ফোরক দাবি করে জানান, এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই দুর্গাপুজোর আগে বা পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। আর বাকি ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদ সরাসরি পদ্ম প্রতীক না নিলেও বাইরে থেকে এনডিএ (NDA) সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। বসুনিয়ার এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর একদিকে যেমন অস্বস্তিতে পড়েছে তাঁর দলীয় সতীর্থরা, তেমনই কড়া সুর চড়িয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস, উভয় শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

জগদীশের এই বয়ান সামনে আসতেই কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, “২০২১-এর পরবর্তী পরিস্থিতি ভুললে চলবে না। যে কেউ চাইলেই বিজেপিতে যোগ দেবে, আর আমরা নিয়ে নেব, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যে বিজেপিতে ওঁরা যোগ দেওয়ার কথা বলছেন, তা বোধহয় মঙ্গল গ্রহের বিজেপি!” অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুর চড়িয়ে বলেন, “দিশাহারা হয়ে ঘুরছেন সবাই। যে দিন ওঁরা দল ছেড়েছিলেন, সে দিনই ঠিক হয়ে গিয়েছিল যে সকলের সাংসদ পদ যাবে। সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের আবেদনের পরই স্পিকারের নোটিস সামলাতে ব্যস্ত ওঁরা। এবার বিজেপিতে গেলেও সাংসদ পদ বাঁচবে না।”

উল্লেখ্য, এনসিপিআই-এর অন্দরে থাকা মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান সরাসরি বসুনিয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানান, “আমি, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান, কেউই বিজেপিতে বা এনডিএ-তে যাব না। জগদীশ নিজের মনগড়া কথা বলছেন।” আবার বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দীর মতো হেভিওয়েট মুখেরা এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। উল্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্রোহী সাংসদ আক্ষেপ করে বলেন, “জগদীশ যা বলেছেন তা ভুল নয়, কিন্তু এই মুহূর্তে কথাটা প্রকাশ্যে বলে উনি সবাইকে আইনি ও রাজনৈতিক বড় অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন।”

আসলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লোকসভার স্পিকারের পাঠানো দলত্যাগ বিরোধী নোটিসের জেরে চরম আইনি সংকটে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে সাময়িক ছাড় পেলেও, পুরভোটের আগে এই পদ্ম-যোগের নাটক কীভাবে শেষ হয়, সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যের।

Related Articles