কলকাতা

বিরোধী দলনেতা হতে বিধায়কদের সই জাল? শোভনদেবকে ‘হ্যাংলা’ কটাক্ষ মদনের!

মদন মিত্রের নজিরবিহীন আক্রমণ! "চোখের জল ফেলে কেন সহ্য করছেন মমতা?" বিস্ফোরক কামারহাটির বিধায়ক!

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় ভাঙনের পেছনে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবীণ এই বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ‘সই জালিয়াতি’র বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন মদন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি তাঁকে ‘হ্যাংলা’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। মদন মিত্রের এই অভাবনীয় রাজনৈতিক হানাহানিতে ফের চরম অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে মমতা শিবিরে।

ভবানীপুরের প্রবীণ নেতার নাম না করে চরম কটাক্ষের সুরে মদন মিত্র প্রশ্ন তোলেন, “আমার বাড়ির পাশেই এক বয়স্ক ভদ্রলোক থাকেন, যিনি ৭২ সালে বার্লিন গিয়েছিলেন। উনি স্রেফ বিরোধী দলনেতা হবেন বলে সবার সই জাল করেছেন! এত হ্যাংলা?” তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মদনের প্রশ্ন, “তদন্ত হলে সব সত্যি বেরিয়ে আসবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পোষ্য হিসেবে ওনাকে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যেসব সই জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে চরম মিথ্যাচার করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন স্রেফ চোখের জল ফেলে এই অপমান সহ্য করছেন?”

ঘটনার পেছনে রয়েছে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের একটি জটিল আইনি ও প্রশাসনিক জট। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিধায়কদের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর ১৯ মে ফের একটি প্রস্তাবপত্র সচিবালয়ে জমা দেওয়া হয়, যাতে ৭০ জন তৃণমূল বিধায়কের সই ছিল।

তবে বিধানসভার সচিবালয়ে পেশ করা বিধায়কদের শপথের সই ও প্রস্তাবপত্রের সইয়ের মধ্যে মারাত্মক গরমিল ধরা পড়ে। বিষয়টির জল গড়ায় থানা ও সিআইডি (CID) তদন্ত পর্যন্ত। বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ককে ইতিমধ্যেই এই সই জালিয়াতি মামলায় জেরা করেছে গোয়েন্দারা। এতদিন এই বিতর্কিত সই মামলার নেপথ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে চর্চা থাকলেও, এবার মদন মিত্র সরাসরি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ওপর দায় চাপিয়ে ও ‘সই জালের’ অভিযোগ তুলে তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধকে নতুন করে রাজপথে নিয়ে এলেন।

Related Articles