রাজ্যের খবর

থানার বাইরে দেদার ডিম-বৃষ্টি, চোর স্লোগান! হেলমেট পরিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হল সোমনাথকে

আর জি করের তথ্যপ্রমাণ লোপাটে জড়িত থাকার অভিযোগ! পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধানকে চরম হেনস্থা

Truth of Bengal: আর জি করের নারকীয় কাণ্ডে নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের নতুন মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। দক্ষিণ ভারত থেকে পাকড়াও হওয়া পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে ফিরিয়ে আনতেই গণরোশের মুখোমুখি হতে হল। শুক্রবার ভোররাতে খড়দহ থানা থেকে বারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষ সোমনাথের উদ্দেশ্যে একের পর এক ডিম ছুঁড়ে ‘ডিম থেরাপি’ চালায়। অপ্রীতিকর ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্ত সোমনাথকে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ, কিন্তু তাহলেও তাঁকে বিক্ষোভ ও ডিম হামলা থেকে রক্ষা করা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর জি করের মর্মান্তিক ঘটনায় তড়িঘড়ি শ্মশানে দেহ দাহের মাধ্যমে মূল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ তুলে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ইঙ্গিতের পরেই নিহতের পরিবার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে’র বিরুদ্ধে খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ আগেই নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল (বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত হলেও অন্য মামলায় জেলবন্দি)।

তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সোমনাথ দে। পুলিশ ও সিআইডির হাত থেকে বাঁচতে তিনি বারবার নিজের অবস্থান ও ব্যবহৃত ফোন নম্বর বদলে ফেলছিলেন। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু থেকে খড়দহ থানার বিশেষ দল তাঁকে ধরে ফেলে। শুক্রবার ভোররাতে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় এবং পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর দিন পানিহাটি শ্মশানের খাতায় ও রিকুইজিশন স্লিপে সোমনাথ দে’র প্রত্যক্ষ নাম ও ভূমিকা মিলেছে। দেহ দাহ করার দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সেখানে প্রভাবশালী উপস্থিতি নিয়ে সোমনাথকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুক্রবার যখন তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়, তখন আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সোমনাথকে ঘিরে সোচ্চার হওয়া ‘চোর চোর’ স্লোগান এবং উড়ে আসা ডিমে আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়দহ ও বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Related Articles