রাজ্যের খবর

রোড রোলারে পিষলেন কয়েক লক্ষ কফ সিরাপ! বালুরঘাটে নেশামুক্ত বাংলা গড়ার ডাক শুভেন্দুর

নিজে রোড রোলার চালিয়ে পিষে দিলেন লাখ লাখ ফেনসিডিল! বালুরঘাটে শুভেন্দুর নজিরবিহীন দাপট

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: সম্পূর্ণ নেশামুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা নিয়ে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ, সোমবার প্রথমবারের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট সফরে পৌঁছে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের সাক্ষী রাখলেন রাজ্যবাসীকে। বালুরঘাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই একটি বিশালাকার রোড রোলার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন প্রায় ২ লক্ষ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বা ফেনসিডিলের বোতল। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করার পর বালুরঘাটের মঞ্চ থেকেই মাদকমুক্ত বাংলা গড়ার কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানান, “পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের যেখানেই এমন মারণ ড্রাগ পাওয়া যাবে, তা সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করে একইভাবে ধ্বংস করা হবে। যারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

সীমান্তবর্তী এই জেলায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়কে বিশেষ কৃতিত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুর বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পূর্বে পুলিশ ও বিএসএফের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না, বিএসএফকে যেন শত্রুপক্ষ ভেবে রাখা হতো। কিন্তু গত চার মাসে বিএসএফ ও পুলিশ যৌথ অপারেশন চালিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের আগেই এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে। যারা এই ঘৃণ্য কারবারে যুক্ত, তাদের বছরের পর বছর জেলের ঘানি টানতে হবে।”

মাদক ধ্বংসের এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। এর পরপরই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ও বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের জন্য অনুমোদন পাওয়া একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনা করতে একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিংয়ে পৌরহিত্য করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

Related Articles