‘দেশদ্রোহী’ তকমার পালটা ইতিহাস! স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সামনে রেখে সিপিএমের জবাব
কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে দলের বর্ধিত অধিবেশনের প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী।
Truth of Bengal: স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্টদের ভূমিকা নিয়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার ইতিহাসকে সামনে রেখে পালটা বয়ান তৈরির চেষ্টা সিপিএমের। কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে দলের বর্ধিত অধিবেশনের প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিপ্লবী এবং পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তিত্বের ছবি ও তাঁদের সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে জায়গা পেয়েছেন মেজর জয়পাল সিং, সরোজ মুখোপাধ্যায়, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, গণেশ ঘোষ, কল্পনা দত্ত, মাস্টারদা সূর্য সেন, এ কে গোপালন, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, মুজফ্ফর আহমদ, লক্ষ্মী সেহগল, চন্দ্রশেখর আজাদ, আশফাকউল্লা খান, ভগৎ সিং, পি সি জোশি এবং এম এন রায়-সহ বহু পরিচিত মুখ।
সিপিএমের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলন কোনও একটি রাজনৈতিক ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কেউ সশস্ত্র বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন, কেউ শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন, আবার অনেকেই পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। গণেশ ঘোষের মতো বিপ্লবীদের রাজনৈতিক জীবনের সেই পরিবর্তনও প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য স্বাধীনতা সংগ্রামের বহুমাত্রিক ইতিহাসকে সামনে আনা। পাশাপাশি নদিয়া জেলার স্বাধীনতা সংগ্রাম ও কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসকেও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দেশদ্রোহী’ অভিযোগের পালটা জবাব হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। ফলে ঋত্বিক সদনের এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র ইতিহাসের ছবি নয়, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে।






