রাজ্যের খবর

“কমিউনিস্টরাই দুর্গাপুজো তুলে শারদোৎসব করেছিল”, দুর্গার নাম বাদ দেওয়া নিয়ে দিলীপের তোপ!

বামেদের কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, কমিউনিস্টরা ‘দুর্গাপুজো’ না বলে ‘শারদোৎসব’ বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন

Truth of Bengal: দুর্গাপুজো মানেই শুধু আলোর রোশনাই, থিমের চমক কিংবা চার দিনের হইহুল্লোড় নয়—শাস্ত্রীয় বিধি এবং আচারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেই বার্তাই দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় দিককে গুরুত্ব না দিয়ে সেটিকে কেবল ‘শারদোৎসব’-এর চেহারা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ‘দুর্গা’ শব্দটিকেই কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। সেখানেই এবারের দুর্গাপুজো সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি অষ্টমীর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় এসে অঞ্জলিতে অংশ নিতে পারেন বলেও জল্পনা রয়েছে। এই আবহে এবারের পুজোয় শাস্ত্রীয় রীতিনীতি পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহলে কি এবার দুর্গাপুজোয় জাঁকজমক বা থিমের গুরুত্ব কমবে? উত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন, আড়ম্বর নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি তখনই, যখন সেই আড়ম্বরের আড়ালে মূল পুজোটাই হারিয়ে যায়। বামেদের কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, কমিউনিস্টরা ‘দুর্গাপুজো’ না বলে ‘শারদোৎসব’ বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। পুজোয় বিশ্বাস না করলেও বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, থিম এবং উৎসবের জৌলুস বাড়তে বাড়তে অনেক ক্ষেত্রেই দেবী আরাধনার মূল উদ্দেশ্য পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। নিজের বক্তব্য বোঝাতে বিয়ের উদাহরণও টেনেছেন দিলীপ। তাঁর কথায়, বিয়েতে বিপুল আয়োজন হতে পারে, বহু অতিথিকে খাওয়ানো যেতে পারে, সাজসজ্জাও হতে পারে চোখধাঁধানো। কিন্তু সেই সব আয়োজনের মধ্যেও বিয়ের মূল ধর্মীয় আচার এবং মন্ত্রপাঠ বাদ দেওয়া যায় না। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে তাঁর মত।

দিলীপের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর নির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে। পুরোহিতদের সেই নিয়ম মেনেই পুজো সম্পন্ন করতে হয়। দুর্গাপুজোর আচার শেখানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তাঁর সাফ কথা, পুজো করতে হলে নিয়ম মেনেই করা উচিত। শুধু অনুষ্ঠান, থিম আর আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে পুজো বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এর আগেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে বামেদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ। পুজোমণ্ডপের সামনে বামেদের বইয়ের স্টল নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি। এবার একই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—জৌলুস থাকুক, থিমও থাকুক, কিন্তু তার আড়ালে যেন দুর্গাপুজোর মূল আচার ও আরাধনাই হারিয়ে না যায়।

Related Articles