রাজ্যের খবর

ইথানলের ধাক্কা ও আখের যোগান ঘাটতি! বিশ্বজুড়ে চিনির বাজারেও আগুন

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র ১০ লক্ষ টন চিনি নিশুল্ক বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।

Truth of Bengal: দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির সংকট মোকাবিলা করতে এবং ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক দশক পর চিনি আমদানির মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঐতিহ্যগতভাবে ভারত কেবল চিনি উৎপাদনে স্বাবলম্বীই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতেও অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে এসেছে। তবে চলতি বছরে দেশে অনিয়মিত বর্ষার কারণে আখের ফলন মার খাওয়া এবং ইথানল উৎপাদনে অতিরিক্ত আখের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এই অভূতপূর্ব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সামনেই দুর্গাপূজা ও দীপাবলির মতো বড় উৎসবের মরশুম থাকায় বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে, তাই সময় থাকতে দর নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক বিপাকে পড়বেন।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র ১০ লক্ষ টন চিনি নিশুল্ক বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। বর্তমানে দেশীয় বাজারে চিনি মিলগুলিতে আখের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হল ইথানল কারখানাগুলির বর্ধিত চাহিদা। ইথানল তৈরিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আখের রস প্রয়োজন হওয়ায় কারখানাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে কিছুটা বেশি দামে আখ কিনে নিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চিনি উৎপাদনে। গত মঙ্গলবার ভারতের অন্যতম প্রধান চিনি হাব মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে কুইন্টালপ্রতি চিনির দর উঠে যায় রেকর্ড ৫,৪০০ টাকায়। দেশের খোলা বাজারে বর্তমানে এক কেজি চিনির খুচরো দাম ৫৮ টাকা থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।

সরকারের এই প্রাথমিক আমদানি নীতি বাস্তবায়িত হলে কুইন্টালপ্রতি চিনির দাম আনুমানিক ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভারতের মতো বৃহত্তম ভোক্তা দেশ যখন বিশ্ববাজার থেকে চিনি কেনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্রিটেন ও আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাজারেও। বিশ্বজুড়ে মোট চিনির চাহিদার প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ মেটায় ভারত। ফলে রপ্তানিকারক থেকে একলাফে আমদানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির দর উর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।