৫৫ কিলোমিটার শোভাযাত্রায় থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজের বার্তা সেরাম-এর
শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে হালিশহরের রামপ্রসাদ ভিটে প্রাঙ্গণ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শোভাযাত্রাটি।

Truth of Bengal: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদযাপনের আবহে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করল সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশন। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গান দিয়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয় থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে হালিশহরের রামপ্রসাদ ভিটে প্রাঙ্গণ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শোভাযাত্রাটি।

সাজানো গাড়িতে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন। যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা প্রচার করা হয়। শ্যামবাজার, চিড়িয়ামোড়, সিঁথির মোড়, ডানলপ, আগরপাড়া, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড়, ব্যারাকপুর, পলতা, শ্যামনগর, নৈহাটি কাপামোড় হয়ে হালিশহরে পৌঁছয় শোভাযাত্রা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মানুষকে অবহিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা আগে থেকে জানা থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশনের সম্পাদক সঞ্জীব আচার্য বলেন, ‘‘বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া বাহক রক্ত পরীক্ষা করিয়ে প্রত্যেকেই থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার কাজে শরিক হতে পারেন। শিশুদের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার নৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
সংগঠনের দাবি, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সারা বছরই বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি চালানো হয়। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা সেই ধারাবাহিক কর্মসূচিরই অংশ। দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারকেও যুক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগে।

আয়োজকদের বক্তব্য, থ্যালাসেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন আগাম সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ। তাই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রোগটি সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করাও জরুরি। শ্যামবাজার থেকে হালিশহর পর্যন্ত দীর্ঘ পথের এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে সেই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ সচেতন হবেন এবং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়বে।


