
The Truth of Bengal: প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। আমানতকারীদের কাছে পৌঁছতে বেশ কিছু ব্যাঙ্ক নিয়োগ করে থাকে এজেন্ট। কিন্তু তারা কতটা বিশ্বস্ত? টাকা নিয়ে গিয়ে আদৌ কি জমা করেন? তাই এমন এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা জমা দিলেও, আমানতকারীদেরই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা।
কলকাতা ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মস্যাৎ করার অভিযোগ উঠল দুই এজেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁদের গ্রেফতার করেছে বড়বাজার থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম কাঞ্চন কুমার ও রাজকুমার রায়। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সুরেশ কুমার নামে আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে রয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ১৩ জন আমানতকারীর কাছ থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। মনে করা হচ্ছে, এই টাকার পরিমাণ কয়েক কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে।
পুলিশের দাবি, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রত্যেকদিনের আমানত জমা দেওয়ার জন্য মূল এজেন্ট ছিলেন রাজারহাটের বাসিন্দা কাঞ্চন কুমার। তিনি ব্যাঙ্কের হয়েই উত্তর কলকাতা থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার বড়বাজার, পোস্তা অঞ্চলের বহু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তুলে আনতেন। তার কাজ ছিল প্রত্যেকদিন টাকা তুলে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীদের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা করা। সেই অ্যাকাউন্টগুলি ছিল ফিক্সড ডিপোজিটের। ফলে, আমানতকারীরা মাসের পর মাস খোঁজ খবরও করতেন না, টাকা সত্যি জমা পড়ছে কিনা তা নিয়ে।
অন্তত দু’শো জন প্রত্যেকদিন এভাবে কাঞ্চনের হাত ধরে টাকা জমা পড়ত ব্যাঙ্কে। পরিবর্তে কাঞ্চন মূল এজেন্ট হিসাবে ব্যাঙ্ক থেকে এক শতাংশ কমিশন পেয়ে থাকেন। ২০১৯ সালে কাঞ্চন আমানতকারীদের জানায়, সে অত্যন্ত অসুস্থ। তাই এবার থেকে তার হয়ে সাব এজেন্ট রাজকুমার রাই উত্তর কলকাতার সিঁথি, টালাসহ পূর্ব কলকাতার ফুলবাগান পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করবে। এবং বড়বাজার, পোস্তা, জোড়াসাঁকো, গিরিশ পার্ক অঞ্চলে টাকা তুলবেন সুরেশ সিং। পুলিশের তদন্তে জেনেছে, কাঞ্চন ব্যাঙ্কের অনুমতি ছাড়াই দুই সাব এজেন্ট নিয়োগ করেছিল।


