শিলিগুড়িকে ঘিরে ISI ‘সেল’ তৈরির ছক! পাক চর রানাকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য
শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর ‘সেল’ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল পাক চর রানা রউফ খালিদের।
Truth Of Bengal: শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর ‘সেল’ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল পাক চর রানা রউফ খালিদের। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকেই তাঁর কাছে এই নির্দেশ এসেছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন ‘এজেন্ট’ নিয়োগের চেষ্টা করছিল রানা।
তদন্তে উঠে এসেছে, চরবৃত্তির জন্য একটি ‘স্পাইওনেজ সেল’ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই সেলের মাধ্যমে সেনা ও সীমান্তবর্তী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আরও একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।
রানার নেপাল-যোগ নিয়েও উঠে এসেছে একাধিক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডুতে থাকাকালীন নেপালের বিভিন্ন এলাকায় থাকা পাঁচ সন্দেহভাজন ISI এজেন্টের সঙ্গে WhatsApp কলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এমনকি কাঠমান্ডুতেই শিলু নামে এক নেপালি মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন রানা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে কাশিফের নামে নেপালের দু’টি এবং শ্রীলঙ্কার একটি সিমকার্ড ছিল। হানিফ চৌধুরীর নামে নেপালের একটি, সোহেলের নামে পাকিস্তানের একটি এবং জেডি-র নামে নেপালের একটি সিমকার্ডের হদিশ মিলেছে। হারুন সফদারের ক্ষেত্রেও বিদেশি সিমকার্ড ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
শুধু তাই নয়, রানা নিজেও শিলিগুড়ি থেকে দু’টি সিমকার্ড সংগ্রহ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে নেপালে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোনটি নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করে সে। সেই সূত্র ধরেই শিলিগুড়ির কয়েকজন সিমকার্ড বিক্রেতাকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারীদের দাবি, শনিবারের মধ্যেই বাংলাদেশের ঢাকা থেকে বিমানে করাচি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। সেখানে পাকিস্তানের একাধিক ব্যক্তির সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল বলে সন্দেহ। এরপর করাচি থেকে ইসলামাবাদের সেক্টর সেভেনে অবস্থিত ISI-এর সদর দফতরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
সেখানে ‘স্পাইওনেজ সেল’ তৈরির অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় জঙ্গি মডিউলগুলিকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেনা ছাউনি এবং সীমান্তবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে হামলার সম্ভাবনা নিয়েও কোনও পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে পালানোর আগেই অবশ্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রানা। মঙ্গলবার রাতে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় তার সহযোগী মহম্মদ ইজাজকেও।
এখন মূল প্রশ্ন, রানার তৈরি করা নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত? ইতিমধ্যে কতগুলি ‘সেল’ তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে কতজনকে নিয়োগ করা হয়েছিল? সেই উত্তর খুঁজতেই রানাকে লাগাতার জেরা করছেন STF-এর আধিকারিকরা। একই সঙ্গে নেপাল, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।






