রাজ্যের খবর

বঙ্গবিভূষণ কাড়ার পরও কমেনি তেজ! নেতাজি বিতর্কে গ্রেফতারির আশঙ্কার মাঝেই হুঙ্কার অনন্ত মহারাজের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কড়া নির্দেশের পর অ্যাকশনে পুলিশ! গ্রেফতার ২ অনুরাগী, এবার কি শ্রীঘরে অনন্ত মহারাজ?

Truth of Bengal: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জনরোষ। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের তরফে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কেড়ে নেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানও। কোচবিহারের কোতয়ালি থানার পুলিশ এই ঘটনায় অনন্ত মহারাজের দুই অনুরাগীকেও গ্রেফতার করেছে। যেকোনও মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে এবং এমনকি জেলযাত্রার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চতুর্দিক থেকে বিপুল চাপ আসা সত্ত্বেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ বিজেপি সাংসদ।

বিতর্কের সপক্ষে সাফাই দিয়ে অনন্ত মহারাজ দাবি করেছেন, “যে সময়ের ইতিহাস তুলে ধরেছি, তখন আমার জন্ম হয়নি। আমি নেতাজিকে কোনও অপমান করিনি, কাউকে গালাগালও দিইনি। কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া রূপকথা বানিয়ে বলার অভ্যাস আমার নেই। ইতিহাসে যা লেখা রয়েছে, কেবল সেটাই মানুষের সামনে এনেছি। যদি কোনও অন্যায় করে থাকি, তবে আইন আমাকে শাস্তি দিতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর বিতর্কের আগুন আরও উসকে উঠেছে।

ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন অনন্ত মহারাজ? সম্প্রতি এক জনসভায় বর্ষীয়ান এই নেতা দাবি করেন, কেবল গান্ধিজি বা নেহরুর আন্দোলনের ফলে ভারত স্বাধীন হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ইতিহাসে কোচবিহারের মহারাজার অবদানকে সঠিক গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি দাবি করেন, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন এবং জার্মানির হাতে বন্দি সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হলে নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেন। এছাড়া, স্বাধীন ভারতের সম্রাট হিসেবে কোচবিহারের মহারাজাকে বসানো হলে দেশভাগ আটকানো যেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে এমন আপত্তিকর বক্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে আপামর বাঙালি। ঘটনার তীব্রতা দেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। রাজ্য প্রশাসনের এই কড়া মনোভাবের পর অনন্ত মহারাজের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

Related Articles