রাজ্যের খবর

শ্মশানে কী ঘটেছিল সেদিন? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মল-সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে FIR অভয়ার বাবার

তড়িঘড়ি দেহ দাহের নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্র? নির্মল ঘোষ সহ হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

Truth of Bengal: আরজি কর কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসক অভয়ার নৃশংস মৃত্যুর দু’বছর পার হলেও জট খোলেনি আসল সত্যের। ঘটনায় সিবিআই তদন্তের ভূমিকা নিয়ে একাধিকবার উগড়ে দিয়েছেন অভয়ার বাবা-মা। কে বা কারা আসল অপরাধী, সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, এসব নানা প্রশ্ন তুলে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই কেসের বন্ধ হওয়া ফাইল ফের খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে অভয়ার সৎকারকে কেন্দ্র করে পানিহাটি শ্মশানঘাটে ঠিক কী বেআইনি ঘটনা ঘটেছিল, তা বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে খড়দহ থানায় নতুন করে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন অভয়ার বাবা। এই নয়া অভিযোগপত্রে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রচনা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোরপূর্বক প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের মতো গুরুতর জামিনঅযোগ্য ধারা আনা হয়েছে।

অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে পানিহাটিতে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, অভয়ার দেহ দাহ করার প্রক্রিয়াতেও চরম বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। এমনকি দেহ সৎকার করার সময় বাড়ির লোকের কাছ থেকে আইনি সই পর্যন্ত নেওয়া হয়নি এবং সৎকার প্রক্রিয়ার খরচও পরিবারকে দিতে দেওয়া হয়নি। তৎকালীন শাসকদলের নেতা নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সন্দীপ মুখোপাধ্যায় উপস্থিত থেকে প্রভাব খাটিয়ে জোর করে এই দাহ কার্য সম্পন্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

অভয়ার বাবার লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের পর দেহ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত দাহ করার জন্য তাঁদের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি অভিযুক্তরা সোজাসুজি তাঁদের বাড়িতে চলে আসেন এবং পরিবারকে অভয়াকে শেষশ্রদ্ধাটুকু জানানোর সময়টুকু পর্যন্ত দেননি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সেই তরুণী চিকিৎসকের দেহ। কলকাতা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছিল এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। আদালত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেও পরিবারের অভিযোগ, এই নারকীয় কাণ্ডে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী যুক্ত ছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন তদন্তকারী আধিকারিক নিয়োগ করে সিবিআই পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে, পাশাপাশি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও ঘটনার গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দিতে চলেছে।

Related Articles