রাজ্যের খবর

“মমতাকে জুতো-কাদা ছোড়া বাংলার সংস্কৃতি নয়!”, হালিশহরের ঘটনায় এবার ক্ষুব্ধ শমীক-অগ্নিমিত্রারা

কাদা-চটি ছোড়া থেকে 'চোর' স্লোগান! হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

Truth of Bengal: হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অভাবনীয় বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জল, কাদা ও চটি, তোলা হয় ‘চোর’ ও ‘ডাকাতরানি’ স্লোগান। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণকে সরাসরি অপসংস্কৃতি আখ্যা দিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

গত শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারকে তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। পরিবারের দাবি, গ্রেফতারির পর চিকিৎসাগত পরীক্ষার সময় এবং সন্ধ্যায় স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের মুহূর্ত পর্যন্ত বিরজু পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু পুলিশের দাবি, ভোররাতে লকআপের ভেতরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয় পরিবার।

রবিবার দুপুরে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও উপাসনা চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে হালিশহরে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই স্থানীয়দের একাংশের তীব্র আক্রোশের মুখে পড়েন তিনি। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় মারাত্মক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল হট্টগোলের মাঝেই নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।

এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এভাবে কাদা বা জুতো ছোড়া একেবারেই অনুচিত। এটি কোনওভাবেই বাংলার সংস্কৃতি বা রাজনীতির রীতি হতে পারে না।” তবে এই বিক্ষোভের পেছনে বিজেপির কোনো ইন্ধন নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ঘটনার নিন্দা জানালেও বিগত পনেরো বছরের শাসনকালের খতিয়ান তুলে ধরে তোপ দাগেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত ১৫ বছর ধরে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মহিলাদের আত্মসম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি অভয়া কাণ্ডেও তিনি সঠিক বিচার দিতে পারেননি, সবই সত্যি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একজন প্রবীণ রাজনীতিকের গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া, জুতো মারা বা ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে সমর্থনযোগ্য নয়।”

Related Articles