কোথা থেকে এলো এত টাকা? টুলু মণ্ডলের ২০০ কোটির সাম্রাজ্যে এবার ইডির নজর!
ইডি সূত্রে খবর, টুলুর সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সংস্থার বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশের কাছে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: বীরভূমের বালি-পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে এবার নজরদারি শুরু করতে পারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জেলা পুলিশের তদন্তে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে দাবি। এত অল্প সময়ে কীভাবে গড়ে উঠল এই বিপুল সাম্রাজ্য, অর্থের উৎসই বা কী—তা খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, টুলুর সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সংস্থার বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশের কাছে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু তথ্য ও নথি ইডির হাতে পৌঁছেছে বলেও জানা গিয়েছে। সেগুলি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে টুলু মণ্ডল সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছে এসটিএফ। তবে বিপুল সম্পত্তির সঙ্গে বেআইনি অর্থ, বিদেশি বিনিয়োগ কিংবা অর্থপাচারের যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলি ইডির তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
জেলা পুলিশ সূত্রে দাবি, টুলুর নিজের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামেও একাধিক সম্পত্তি এবং সংস্থার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। একসময় গৃহশিক্ষকতা ও দিনমজুরির কাজ করা টুলু পরে খাদান ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেন। ধীরে ধীরে তিনি বালি-পাথর খাদান ও পরিবহণ ব্যবসার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যবসায় উত্থানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাঁর জমি, বাড়ি, গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ। নগদ টাকা, সোনা এবং বিলাসবহুল যানবাহনের হিসাব দেখে তদন্তকারীদের একাংশও বিস্মিত। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিপুল আর্থিক উত্থানের নেপথ্যে কোনও বেআইনি কারবার ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ফিক্সড ডিপোজিট এবং মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনা রয়েছে।
এছাড়াও প্রায় ৪০০ বিঘা জমি, একাধিক বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। ওই সব সম্পত্তিকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। টুলুর আরও কোনও বেনামি সম্পত্তি রয়েছে কি না, তার খোঁজ চলছে। তদন্তে দুবাই-সহ ভারতের বাইরে একাধিক জায়গায় বিলাসবহুল রিসর্ট, ফ্ল্যাট এবং বিনিয়োগের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ওই সমস্ত সম্পত্তি কার নামে কেনা হয়েছিল এবং অর্থ কীভাবে বিদেশে পৌঁছেছিল, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার একটি অংশ দুবাই ও সুইৎজারল্যান্ড থেকে এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে সেগুলি বৈধ পথে আমদানি হয়েছিল কি না, তার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত অর্থবর্ষে টুলু মণ্ডল প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয়কর দিয়েছেন। ফলে তাঁর সম্পদের কতটা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কতটা অঘোষিত, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে হাওয়ালা লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, বেআইনিভাবে অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কি না এবং আন্তর্জাতিক সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না—এই সমস্ত দিক ইডি খতিয়ে দেখতে পারে বলে সূত্রের খবর। জেলা পুলিশের কাছ থেকে সম্পূর্ণ নথি হাতে পাওয়ার পর ইডি পৃথক মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করবে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে টুলুর বিপুল সম্পত্তির উৎস ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নতুন করে চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে।




