সম্পত্তির পাহাড় দেখে আঁতকে উঠলেন গোয়েন্দারা! হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই দুবাইয়ে চম্পট টুলু মণ্ডল?
সরকারি খাস জমি দখল থেকে লাইসেন্সহীন ব্যবসা! সাঁড়াশি চাপে 'পাথর মাফিয়া' টুলু, সিল করা হল গোপন ডেরা!
Truth of Bengal: অবৈধ পাথর খাদান পরিচালনা, বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি এবং সরকারি খাস জমি দখলের মারাত্মক সব অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগের তির বীরভূমের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের দিকে। পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় একের পর এক শাগরেদ গ্রেপ্তার হলেও, মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডলের কোনো হদিস মিলছিল না। এবার উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, পুলিশের চোখ এড়িয়ে ইতিমধ্যেই দুবাইয়ে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন যে টুলু বিদেশে চম্পট দিয়েছেন। সূত্রের খবর, দুবাইয়ে নিজের অন্তর্বাসিনী মেয়ে ও জামাইয়ের কাছেই গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন তিনি।
এদিকে শনিবার রাতে মহম্মদবাজার থানা এলাকার সোঁতশালে টুলুর মূল অফিসে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সঙ্গে আনা হয়েছিল ধৃত মিনার মণ্ডলকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান। তল্লাশি শেষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করে অফিসটি পুরোপুরি সিল করে দেন তদন্তকারীরা। ওই ফাইলগুলি থেকে কী কী বিস্ফোরক তথ্য মিলল, তা নিয়ে আপাতত মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পাথর ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও ট্রেড লাইসেন্স টুলুর ছিল কি না, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির এক আধিকারিকের কথায়, “টুলু নিজেই সব নিয়ন্ত্রণ করতেন, ফলে লাইসেন্স খতিয়ে দেখার মতো পরিস্থিতি ছিল না।” শুধু তা-ই নয়, তাঁর পার্কিং এরিয়া ও খাদান এলাকার মধ্যে বিরাট পরিমাণ সরকারি খাস জমি দখল করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। খুব শীঘ্রই সেই জমির মাপজোখ শুরু হতে চলেছে।
আইনি প্যাঁচে ফেলে টুলুর আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে তৎপর প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তাঁর মেয়ের নামে থাকা একটি পেট্রোল পাম্প এবং বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে দুই হিসাবরক্ষক পুলক দে ও রেখিউল ইসলামকে। একের পর এক তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের মাঝে টুলুর সাম্রাজ্য যে এবার পুরোপুরি ভাঙনের মুখে, তা স্পষ্ট।





