রাজ্যের খবর

উত্তরবঙ্গে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত! মূর্তি নদীর ওপর ২০ কোটির সেতুর উদ্বোধন শুভেন্দুর

নতুন সেতু চালু হওয়ায় জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লাটাগুড়ি, লুকসান ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে

Truth of Bengal: উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মূর্তি নদীর উপর নির্মিত নতুন সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় সেতুটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেন তিনি। নতুন সেতু চালু হওয়ায় জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লাটাগুড়ি, লুকসান ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে। দুই প্রান্তের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথও কমবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সেতু উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে আরও দু’টি নতুন সেতু তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কালীখোলা এলাকার সেতু পুনর্নির্মাণের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সেই কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

নতুন মূর্তি সেতুকে ঘিরে পর্যটন ক্ষেত্রেও বাড়ছে আশা। সেতুটি চালু হওয়ায় জলঢাকা, বিন্দু, রঙ্গু, কুমাই-সহ ডুয়ার্সের একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে পৌঁছতে সময় কমবে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে হোটেল, গাড়ি পরিষেবা থেকে ছোট ব্যবসাতেও। এদিন চা-বাগানের শ্রমিকদের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’-য় ৩১৩.৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। পুজোর মরশুমে চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস এবং বন্ধ চা-বাগানগুলি খোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জলপাইগুড়ির কর্মসূচির আগে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে আরতিতে অংশ নেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, কোচবিহারের সড়ক, রেল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রকৃতি পর্যটনের পাশাপাশি মন্দিরকেন্দ্রিক পর্যটনেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা সংলগ্ন সুভাষিণী চা-বাগানের মাঠে বিশ্ব গন্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। বন দপ্তরের ওই অনুষ্ঠানে জলদাপাড়ার দুই হস্তিশাবকের নামকরণ করার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ ধ্বংস করার কর্মসূচিতেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। বন দপ্তরের একটি বিশেষ প্রদর্শনীও ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।