‘পরিবর্তন হলেও পুরনো রোগ সারেনি!’ তোলাবাজি ইস্যুতে বিস্ফোরক শমীক
শমীকের কথায়, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উন্নয়নের নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে
Truth of Bengal: রাজ্যে বিজেপি সরকার উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে এবং নতুন করে শিল্প বিনিয়োগও আসছে। তবে তোলাবাজি এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি—এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। দলের অন্দরে কিছু ‘বিচ্যুতি’ থাকার কথাও স্বীকার করে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি। শনিবার কলকাতার রাজারহাটে আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে আয়োজিত ‘উদ্যমী সমাগম’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শমীক। সেখানে রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি দুর্নীতি এবং তোলাবাজির প্রসঙ্গও তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীকের কথায়, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উন্নয়নের নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের বাংলায় বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিকাঠামোও নতুন করে সাজানোর চেষ্টা চলছে। তবে পরিবর্তনের পরেও পুরনো ব্যবস্থার কিছু প্রবণতা পুরোপুরি দূর করা যায়নি বলে মেনে নেন তিনি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “পুরোপুরি তোলাবাজি আটকাতে পারিনি। বিচ্যুতি রয়েছে। আমাদের মধ্যে যাঁদের সুপ্ত বাসনা ছিল, তাঁরা এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শমীক স্পষ্ট বার্তা দেন, ক্ষমতায় আসার সুযোগ নিয়ে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলেও নেতৃত্বের তরফে আগেই জানানো হয়েছে। বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দলীয় রাজনীতির অতিরিক্ত প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন শমীক। তিনি বলেন, “প্রতিটি পদক্ষেপে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমরা যেন রাজনৈতিক সমাজের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
তাঁর দাবি, প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং সামাজিক ক্ষেত্রকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত করা না গেলে কোনও সরকারই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারবে না। রাজ্যে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্যও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শমীকের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও কাজের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সরকার বদল হলেও পুরনো ব্যবস্থার সমস্যাগুলি থেকে যাবে। এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন পুজোর আগেই বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রশাসন এবং সংগঠনের দায়িত্ব আলাদা করার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একাধিক জেলায় সভাপতি পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি নিচুতলার কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হতে পারে।





