মন্দির ও মসজিদের আশ্চর্য সহবস্থান ওড়িশি ঘরানার মন্দিরের আদলে তৈরি কুরুমবেড়া দুর্গ
মনে করা হয়, ওড়িশার গজপতি বংশর রাজা কপিলেন্দ্র দেব ১৪৩৮-১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দর মধ্যে দুর্গ নির্মাণ করেন।
Truth of Bengal: পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত গোপীবল্লভপুর এক ব্যস্ত জনপদ। গোপীবল্লভপুর থেকে সড়ক পথে পৌঁছে যাওয়া যায় কেশিয়ারির গগনেশ্বর গ্রামে। সেখানেই রয়েছে ৬০০ বছরের প্রাচীন কুরুমবেড়া দুর্গ। এই দুর্গ আজ ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের দ্বারা সংরক্ষিত।
মনে করা হয়, ওড়িশার গজপতি বংশর রাজা কপিলেন্দ্র দেব ১৪৩৮-১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দর মধ্যে দুর্গ নির্মাণ করেন। পরে আফগান ও মোগল আমলে দুর্গর কিছু সংস্কার হয়। ওড়িশি আদলের মন্দিরের স্টাইলে নির্মিত এই কুরুমবেড়া দুর্গ। চারপাশে রয়েছে সবুজ প্রাঙ্গণ, ফুলের বাগান, স্তম্ভ দিয়ে সাজানো বারান্দা, মাঝখানে রয়েছে ৩টি গোলাকার গম্বুজ। মন্দির ও মসজিদের আশ্চর্য সহবস্থান কুরুমবেড়া দুর্গ। ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি দুর্গ।
কলকাতা থেকে ১৭০ কিলোমিটার আর খড়গপুর জংশন থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গগনেশ্বর গ্রামে রয়েছে কুরুমবেড়া দুর্গ। বাংলায় কর্মরত ব্রিটিশ সরকারি আধিকারিক W Herschel এর হাত ধরে এই কুরুমবেড়া দুর্গর কথা জানা যায়। ১৮৬৭ সালের ডিসেম্বরে এশিয়াটিক সোসাইটির হয়ে তিনি কুরুমবেড়া দুর্গ সম্পর্কে লেখেন।
হার্শেল সাহেবের লেখা থেকে জানা যায়, ১৫ ফুট উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই দুর্গ। ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি প্রাচীর। দুর্গর দেওয়ালে ওড়িয়া লিপিতে খোদাই করা আছে। তবে দুর্গর আদলে দুর্ত বা গড় রক্ষা করার মতো কিছুই নেই। সাধারণ দুর্গর আদলে নয় দেওয়াল। ওয়াচ-টাওয়ার নেই। গোলা বারুদের হামলা রোখার মতো পোক্ত নয় দেওয়াল। হার্শেল সাহেবের মতে আদতে কুরুমবেড়া দুর্গ একটি সাধারণ মন্দির ছিল যাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।
১৯২১-২২ সালে ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের রিপোর্টে বিশদ খুঁটিনাটি তথ্য রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হার্শেল সাহেবকে জানান মোগল আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায় মন্দির। যে গ্রামে রয়েছে কুরুমবেড়া দুর্গ সেই গ্রামের গগনেশ্বর নামটিও এসেছে মহাদেব শিবের থেকে। তাই মনে করা হয় এখানে শিবমন্দির ছিল।ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি আয়তকার প্রাচীন কুরুমবেড়া দুর্গে ইতিহাসের পদধ্বনি আজো শোনা যায়।






