রাজ্যের খবর

টায়ারের দোকান থেকে মানবপাচার চক্র! দুর্গাপুরে NIA-র জালে গোলাম জামা

টানা প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়

Truth of Bengal: কখনও টায়ারের দোকানের কর্মী, কখনও ট্রাভেল এজেন্সির চাকুরে। কিন্তু এই সাধারণ পরিচয়ের আড়ালেই নাকি চলছিল বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে মানবপাচারের কারবার। সেই অভিযোগেই সোমবার দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাম জামা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ। এদিন সকালেই গোলামের ভাড়া বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন দেশে ঠিকা শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে একটি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গোলাম। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের ভুয়ো পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি তৈরিতেও তিনি সাহায্য করতেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্কে বসবাস করলেও গোলামের আদি বাড়ি ছত্তিশগড়ে। সেখানে প্রথমে একটি টায়ারের দোকানে কাজ করতেন তিনি। পরে একটি পর্যটন সংস্থায় চাকরি নেন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই কাজের সূত্র ধরেই বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। প্রায় চার বছর আগে ছত্তিশগড় ছেড়ে দুর্গাপুরে চলে আসেন গোলাম। এখানে বিয়ে করার পর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউ স্টিল পার্কের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তিনি খুব বেশি মেলামেশা করতেন না। তবে মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব-সহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন বলে তাঁর স্ত্রী প্রতিবেশীদের জানিয়েছিলেন। কী কারণে এত ঘন ঘন বিদেশে যেতেন, তা অবশ্য কারও জানা ছিল না।

সোমবার সাতসকালে এনআইএ-র দল এলাকায় পৌঁছনোর পরও অভিযানের কারণ সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মুখ ঢাকা অবস্থায় গোলামকে বাড়ি থেকে বের করে তদন্তকারীদের গাড়িতে তোলা হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিদেশে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের পাঠানোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাঁদের যাত্রা সহজ করতে ভুয়ো পাসপোর্টও তৈরি করে দিতেন গোলাম। অভিযানের সময় তাঁর স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন এনআইএ আধিকারিকরা। স্বামীর গ্রেপ্তারির পর অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি গোলামের স্ত্রী। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জানলা ও দরজা বন্ধ করে তিনি ঘরের ভিতরে চলে যান। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। এই চক্রে আর কারা যুক্ত এবং কতজনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles