কলকাতা

দল ছাড়ার মুহূর্তে মমতার ফোনে মদনের শেষ বার্তা! মাত্র একটা শব্দ লিখে চিরতরে সম্পর্ক ভাঙলেন দীর্ঘদিনের সৈনিক

“সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়াতেই শুলাম!”, ঋতব্রতের ঘরে ঢুকেই অভিষেককে নিয়ে এ কী বললেন মদন মিত্র?

Truth of Bengal: তিনি জিতেছেন, আবার হেরেছেন। পদ পেয়েছেন, আবার হারিয়েছেন। জেল থেকে জামিন, জীবনের বহু চড়াই-উতরাইয়ের পথ পেরিয়েও যিনি কখনও ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়েননি, সেই মদন মিত্রই (Madan Mitra) অবশেষে দল ছাড়লেন। শত অভিমান বুকে চেপেও যিনি কঠিনতম দিনে ‘ভাই’ হয়ে ‘দিদি’র পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির (ED) তলব আসতেই বদলে গেল তাঁর রাজনৈতিক পথ! কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তিনি যোগ দিলেন ‘আসল তৃণমূলে’। তবে দীর্ঘদিনের নেত্রীকে বিদায় জানানোর আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি শেষ বার্তা পাঠাতে ভোলেননি মদন।

রাজ্যের শাসক শিবিরে এখন চরম ভাঙন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজনরা একে একে তাঁর সঙ্গ ছেড়ে হাত ধরছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই তালিকায় অন্যতম বড় নাম মদন মিত্র। জানা গিয়েছে, ‘আসল তৃণমূলে’ যোগ দেওয়ার ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোয়াটসঅ্যাপে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান তিনি। কামারহাটির বিধায়ক সেখানে শুধু লেখেন, ‘সরি’। তবে শিবির বদল করলেও পুরনো নেত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি। মদনের কথায়, “দীর্ঘদিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার”। অবশ্য আগামী দিনে যে তিনি আর কালীঘাটের চৌকাঠ মাড়াবেন না, তা ইতিমধ্যেই সাফ করে দিয়েছেন মদন।

“অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না”

দলবদলের ঠিক পরেই বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধুমাত্র এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম”। ঘরের তুলনা টেনে তাঁর সরস মন্তব্য, “ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম”।

সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে হিটলারি কায়দায় দল চালানোর অভিযোগ আনেন মদন। তাঁর স্পষ্ট হুঙ্কার, “তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায়, তবে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে চলে না, মানুষের কাছে যেতে হবে”। সব মিলিয়ে, মদনের এই দলত্যাগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Related Articles