বিনোদনরাজ্যের খবর

শাহী-সাক্ষাতের পর শুভেন্দুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক! নবান্ন থেকে বেরিয়ে কী জানালেন প্রসেনজিৎ?

পদ্মশ্রী সম্মান থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার! অমিত শাহের সফরের পর কেন হঠাৎ শুভেন্দুর সঙ্গে কফি আড্ডায় প্রসেনজিৎ?

Truth of Bengal: টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র জল্পনার মাঝেই এক মস্ত বড় চমক! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে ১৫ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ঠিক চার দিনের মাথায় এবার সরাসরি নবান্নে হাজির হলেন ‘ইন্ডাস্ট্রির’ অভিভাবক তথা টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ কড়া প্রোটোকল মেনে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে এক দীর্ঘ ও একান্ত বৈঠকে বসেন ‘বুম্বাদা’। বিকেল থেকে সন্ধে সোয়া ৭টা, প্রায় সোয়া দু’ঘণ্টার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর নবান্নের করিডোর থেকে শুরু করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার কিছু পরে নবান্নের ১৪ তলায় ঢোকেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় সোয়া দু’ঘণ্টা পর, সন্ধে ৭টা ১৫ মিনিটে যখন তিনি নবান্ন থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন উপস্থিত সাংবাদিকদের কৌতূহলী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনায় জল ঢেলে অভিনেতা স্পষ্ট জানান, এই বৈঠকের সঙ্গে যোগদানের কোনও সম্পর্ক নেই। বুম্বাদা বলেন, “বাইরে যে সমস্ত জল্পনা চলছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কফি খেলাম আর কিছুক্ষণ গল্প করলাম। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন, মহানায়ক উত্তমকুমারের আসন্ন মৃত্যুদিবসের বিশেষ সম্মান প্রদান-সহ একাধিক জরুরি পরিকাঠামো নিয়ে কথা হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি, যেদিন আমি রাজনীতিতে যোগ দেব, সবার আগে বুক ঠুকে মানুষকে জানিয়েই আসব।”

“প্রোটোকল মেনেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আসা”, অমিত শাহের ১৫ মিনিটের বাড়ির সফর নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা

উল্লেখ্য, গত সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতায় এসে হঠাৎ করেই বালিগঞ্জের প্রসেনজিতের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এদিন অভিনেতা নিজেই খোলসা করেন, “সম্প্রতি দিল্লিতে ‘পদ্মশ্রী’ (Padma Shri) সম্মাননা নিতে গিয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমার বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সেই নিমন্ত্রণ রক্ষার খাতিরেই ওনারা ১০-১৫ মিনিটের জন্য এসেছিলেন, যা সবাই জানেন। আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। সিনেমা জগতের উন্নয়নের স্বার্থে কিছু কিছু জিনিস আমার এবং আমার টিমের দরকার হয়। সেই কারণে প্রোটোকল মেনেই রাজ্যের অভিভাবক তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কিছু অনুরোধ জানাতে এসেছিলাম।”

রাজনীতির হিসাবনিকাশ থেকে দূরেই ‘ইন্ডাস্ট্রি’! সিনেমার স্বার্থে সব করতে রাজি বুম্বাদা

নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রসেনজিতের এই বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। বাংলা সিনেমার বিশ্বায়ন, স্টুডিও পাড়ার আধুনিকীকরণ এবং টেকনিশিয়ানদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিনেতাকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের পর দিল্লিতে পদ্মশ্রী পাওয়া এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ব্যাক-টু-ব্যাক প্রসেনজিতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ টলিউডের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। প্রসেনজিৎ নিজেকে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ থেকে সুকৌশলে দূরে রাখলেও, টলিপাড়ার রাশ যে এখন কার হাতে, তা এই নবান্ন সফর থেকেই জলের মতো পরিষ্কার।

Related Articles