কলকাতা

১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন! ইডি তল্লাশির পর মহাচাপে তৃণমূল

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে

Truth of Bengal: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় ফের চাপে তৃণমূল। মঙ্গলবার রাজ্যের একাধিক জায়গায় দিনভর তল্লাশি চালানোর পর ইডি আধিকারিকদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে দাবি সূত্রের। ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, ওই টাকা গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামে একটি সংস্থা এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে। ইডি সূত্রের দাবি, ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ভিআইপিকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া দিত। তদন্তকারীদের দাবি, তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে ওই সংস্থাকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ব্যবহার করেই সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কেনে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে ইডি।

এই তথ্য সামনে আসতেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের টাকা দিয়ে কেনা বিমান ও হেলিকপ্টার পরে আবার তৃণমূল নেতাদেরই ভাড়ায় দেওয়া হত। অর্থাৎ, দলীয় তহবিলের টাকা ঘুরপথে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেই দিকেই এখন নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইডির সন্দেহ, এই সংস্থার মাধ্যমে তৃণমূলের নিজস্ব তহবিলের টাকা নয়ছয় হয়ে থাকতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমানের ভাড়া বাবদ কোথায়, কার কাছে, কত টাকা লেনদেন হয়েছে—তা খতিয়ে দেখতেই মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় ইডির আলাদা আলাদা দল। তল্লাশির আওতায় ছিল ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’-এর মালিকের অফিস ও বাড়িও। সূত্রের দাবি, ওই ব্যবসায়ী অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁর সংস্থার মাধ্যমেই অভিষেকের বিমানভাড়ার বন্দোবস্ত হত বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সল্টলেকের একটি সংস্থার অফিস এবং সেই সংস্থার ডিরেক্টরদের বাড়িতেও যান ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তৃণমূলের দলীয় তহবিলের সঙ্গে এই বিমানভাড়ার লেনদেনের কী যোগ রয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, সেই হিসেবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইডি সূত্রের দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি থেকে রেশন দুর্নীতি—এই ধরনের কোনও দুর্নীতির টাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, সেই দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের ভাড়া কাটমানি বা তোলাবাজির টাকা থেকে মেটানো হত। সেই অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখতেই খরচের উৎস, লেনদেনের পথ এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করছে ইডি। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, বিমান ভাড়া বাবদ কত টাকা নেওয়া হয়েছিল, কতদিনের জন্য বিমান বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই ভাড়ার টাকা কোন অ্যাকাউন্ট থেকে মেটানো হয়েছিল। তল্লাশিতে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি ও তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে দাবি। পাশাপাশি, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকেও জেরা করেছেন ইডি আধিকারিকরা। সেই জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া নথি থেকেই প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের।

Related Articles