কলকাতা

১ বছরে ১ কোটি ক্যান্টিন বিল! উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে নতুন বিতর্ক, নিশানায় জ্যোতিপ্রিয়-কন্যা প্রিয়দর্শিনী

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য

Truth of Bengal: এক বছরে ক্যান্টিনের বিল ১ কোটি টাকা! উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব থাকাকালীন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের আমলে বিপুল খরচ ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। কীভাবে ক্যান্টিন বাবদ এত টাকা খরচ হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট ক্যান্টিন খাবার সরবরাহ করত। অভিযোগ, সেই ক্যান্টিনের বিল এক বছরে প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এত বিপুল বিল কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে শিক্ষা মহলে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, এত বড় অঙ্কের বিল নিয়ে তিনিও নিশ্চিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, সেই সময় ফিনান্স আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। এরপর নতুন করে টেন্ডার ডাকা হয়। তাঁর বক্তব্য, যেকোনও বিষয়ে তদন্ত হতে পারে, আর তদন্ত হলে তিনি সব তথ্য জানাবেন।

চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের আরও দাবি, বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও প্রাথমিক কিছু অসংগতির অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু পুরনো বিল নয়, সাম্প্রতিক টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। তাঁর দাবি, অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। তিনি বলেন, চাকরির শুরু থেকেই তিনি দেখেছেন একটি নির্দিষ্ট সংস্থাই বরাত পেয়ে এসেছে। তবে ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তির কোনও কাগজ তাঁর জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। প্রিয়দর্শিনীর বক্তব্য, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন। কোন সংস্থাকে কেন বরাত দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে কোটি টাকার বিল তৈরি হল, তা সভাপতি ভাল বলতে পারবেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামও আলোচনায় উঠে আসে। সেই সময় তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে ছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রিয়দর্শিনীকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে তিনি পদত্যাগে রাজি হননি বলে জানা যায়। এরপর শিক্ষাদপ্তর তাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত।

 

Related Articles