মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক বৈশাখী! দুর্নীতির চিঠি পাঠানো হত অভিযুক্তদের কাছেই?
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শোভন-বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়
Truth of Bengal: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই চর্চা রয়েছে। মাঝের সময়ে দূরত্ব তৈরি হলেও তৃণমূলের ভাঙনের আবহে ফের মমতার পাশে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম হামলার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও ছুটে যান শোভন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শোভন-বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশাখী দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে তিনি একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই চিঠি নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, বরং তা অভিযুক্তদের কাছেই পৌঁছে যেত। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্ব পাওয়ার বদলে হাসির খোরাক হয়ে উঠত বলেই দাবি বৈশাখীর।
অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমকে নিয়েও এদিন কড়া মন্তব্য করেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটো হাতই কাটা গিয়েছে। একজন অরূপ বিশ্বাস, আরেকজন ফিরহাদ হাকিম। শোভনের সব থেকে বড় শত্রু এই দুজনই।” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের ভিতরের বহু দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা তিনি মমতাকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু দলনেত্রীর তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। বৈশাখীর অভিযোগ, তিনি যে সব চিঠি লিখতেন, তা নাকি শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের হাতেই চলে যেত। পরবর্তীতে সেই অভিযুক্তরাই বিষয়টি নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করতেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তৃণমূল নেতৃত্ব সেই পথে হাঁটেনি।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন বৈশাখী। দুর্নীতি দমনে শুভেন্দুর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু দুর্দান্ত কাজ করছেন। তাঁকে বহুদিন ধরে চেনেন, কিন্তু বর্তমান ভূমিকায় তাঁকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বৈশাখী। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। বৈশাখীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিজেপির একাংশের দাবি, এই প্রশংসার নেপথ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থও থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, কে এখন কেন কী বলছেন, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।






