কলকাতা

“ওদের স্যালুট জানান!”, বিধানসভার গ্যালারিতে চন্দন-হরগোবিন্দের পরিবারকে দেখিয়ে আবেগপ্রবণ শুভেন্দু

বিধানসভায় শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক! গুন্ডাদমন বিল পাশের দিনে গ্যালারিতে ওয়াকফ হিংসায় নিহতদের পরিবার

Truth of Bengal: সোমবার রাজ্য বিধানসভায় অপরাধ ও সিন্ডিকেট রাজ রুখতে অত্যন্ত কড়া ‘গুন্ডাদমন বিল’ পেশ করে নতুন সরকার। এই বিলের ওপর যখন চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই বিধানসভার গ্যালারিতে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ হিংসার শিকার হওয়া চন্দন ও হরগোবিন্দের পরিজনেরা। বিলের পক্ষে সওয়াল করার সময় কাঁথির বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস যখন তৃণমূল জমানার আইনশৃঙ্খলার সমালোচনা করছিলেন, ঠিক তখনই নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

স্পিকারের অনুমতি নিয়ে গ্যালারির দিকে হাত দেখিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কঠোর বিলটি আজ বিধানসভায় নিয়ে আসার আসল কারণ উপরে (গ্যালারিতে) বসে আছেন। এরা সেই নির্মম হিংসার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ওদের দিকে তাকান, এবং সবাই উঠে দাঁড়িয়ে ওই পরিবারকে স্যালুট জানান।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভার সমস্ত বিজেপি বিধায়ক একযোগে উঠে দাঁড়িয়ে স্বজনহারা ওই পরিবার দুটিকে রাজকীয় সম্মান ও স্যালুট জানান, যা দেখে রীতিমতো আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় বিধানসভায়।

সামশেরগঞ্জের সেই রক্তক্ষয়ী রাত এবং শুভেন্দুর পাশে থাকা

ঘটনার প্রেক্ষাপট গত বছর ১২ এপ্রিলের। তৎকালীন সরকারের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানের মতো বিস্তীর্ণ এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় উন্মত্ত দুষ্কৃতী বাহিনী হিন্দু প্রধান এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নির্মমভাবে খুন করে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসকে। দীর্ঘদিন আসামীরা পলাতক থাকলেও, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা আজকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান, আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করেন এবং তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে সেই খুনিরা কারাগারে সাজা খাটছে।

“তৃণমূল গুন্ডাদের সোশালাইজেশন করেছে”, তোপ বিজেপি বিধায়কের

এদিন গুন্ডাদমন বিলের সমর্থনে বলতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস তীব্র আক্রমণ শানান পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল জমানায় অপরাধীদের সামাজিকভাবে আড়াল করা হত, গুন্ডাদের সোশালাইজেশন করা হয়েছিল। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে থানায় কোনও দুষ্কৃতী ঢুকলে পুলিশ টেবিলের তলায় গিয়ে লুকাত! বাংলার সাধারণ মানুষ ধরে নিয়েছিল এটাই বোধহয় স্বাভাবিক নিয়ম। এই জঙ্গলরাজ চিরতরে বন্ধ করতেই শুভেন্দু সরকারের এই ঐতিহাসিক আইন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিল পাসের মাধ্যমে রাজ্যে অপরাধ দমনে নয়া নজির গড়তে চলেছে বিজেপি সরকার।

Related Articles