“তৃণমূল আমাদেরই দল!” এবার সরাসরি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দরবারে ঋতব্রতরা
যে বৈঠকে তাঁরা দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন, সেই তালিকা কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে
Truth of Bengal: তৃণমূল তাঁদেরই দল—এই দাবি এবার সরাসরি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল শিবির। কমিশন সময় দিলেই দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে নিজেদের দাবি পেশ করবেন তাঁরা। ঋতব্রত শিবির সূত্রে খবর, সোমবার যে বৈঠকে তাঁরা দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন, সেই তালিকা কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিষদীয় শক্তির বিচারে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণও তাঁদের হাতেই—এই যুক্তি কমিশনের সামনে তুলে ধরবেন তাঁরা। ঋতব্রত শিবিরের এক বিদ্রোহী বিধায়ক জানিয়েছেন, কমিশনের কাছে দেখা করার সময় চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর থেকে অনুমতি মিললেই তাঁরা দিল্লি গিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাবেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কমিশন সময় দিলে আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারে ঋতব্রত শিবির। প্রায় ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারে।
ওই প্রতিনিধিদল কেন তাঁদের ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, তা নথি ও যুক্তিসহ তুলে ধরবে বলে জানা গিয়েছে। দলের জাতীয় কর্মসমিতি, বৈঠকের কার্যবিবরণী, বিধায়কদের সমর্থন এবং সাংগঠনিক অবস্থান—সব দিকই কমিশনের সামনে পেশ করা হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-র দফতরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের কয়েকজন। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের ৩০ সদস্যের কর্মসমিতি, পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সেখানে জমা দেন তাঁরা। সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসেননি, কিছু নথি দিয়েছেন। তবে সেই নথি প্রকাশ্যে আনা যাবে না বলেও জানান তিনি। ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের আইনের জ্ঞান প্রচুর, তাই যেখানে খুশি যেতে পারেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার ঋতব্রতদের বৈঠকের পর রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। সেই তালিকায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়। এরপরই পাল্টা তৎপরতা বাড়ায় ঋতব্রত শিবির। এর আগে ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই একাধিক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। গত সপ্তাহে ফের তালিকা সংশোধন করে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তালিকায় রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম যুক্ত করা হয় এবং পরে তা কমিশনে পাঠানো হয়। এর পাল্টা সোমবার ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ বিশেষ অধিবেশন ডাকে ঋতব্রত শিবির। জেলা থেকে আসা বহু নেতা সেই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক থেকে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়।






