আন্তর্জাতিক

তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ফ্রান্সে বন্ধ শতাধিক স্কুল, মৃত্যু ২০ জনের

দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে।

Truth of Bengal: ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইউরোপ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, ব্রিটেন, পর্তুগাল-সহ ইউরোপের একাধিক দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে বা তার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একাধিক দেশে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ৮৪৫টি স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া প্রায় ১,৮০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সকালের দিকে পঠনপাঠন চালানো হচ্ছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা অতীতের বহু রেকর্ড ভেঙেছে। বদো শহরে পারদ পৌঁছেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মধ্য ফ্রান্সের পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রশাসন সূত্রে খবর, তীব্র গরমে ইতিমধ্যেই দুই শিশু-সহ অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইটালির ১২টি শহরে সর্বোচ্চ স্তরের তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে সে দেশের আবহাওয়া দফতর। মিলান, ভেনিস, তুরিন, বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স এবং রোমে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে পৌঁছেছে। বুধবারের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের জেরে রোমে পরিবহণ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

জার্মানিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রয়েছে। আবহবিদদের আশঙ্কা, আগামী দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। তাপপ্রবাহের কারণে ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গরমের প্রভাব পড়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের পরিষেবাতেও।

ব্রিটেনেও তীব্র গরমের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। কোথাও কোথাও পারদ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেলজিয়াম এবং পর্তুগালেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইউরোপে ক্রমশ তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

 

Related Articles