কলকাতা

বাজেটে দুর্গাপুজোকে ঘিরে বড় ঘোষণা, বিশ্ব পর্যটনের মঞ্চে বাংলার ব্র্যান্ডিংয়ে জোর

বাংলার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে

Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে পর্যটন, কৃষি, শিল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশ্বজনীন পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। বাংলার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে আরও বড় পর্যটন সম্পদে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কঙ্কালীতলা, কালীঘাট, তারাপীঠ এবং মদনমোহন মন্দিরের সংরক্ষণ ও প্রসারের বন্দোবস্ত করা হবে। পাশাপাশি শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট এবং শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের মধ্যে পর্যটন সংযোগ আরও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রেও বাজেটে বড় ঘোষণা রয়েছে। দার্জিলিংকে ইকো অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে পাহাড়ে প্রকৃতি-নির্ভর পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় টাইগার সাফারি চালুর পরিকল্পনাও বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। পিএম গতি শক্তি এবং সাগরমালা ২ প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। দুর্গাপুর এবং নদিয়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে। এই উদ্যোগ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

কৃষকদের জন্যও বাজেটে একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। বীজ কেনার জন্য কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে সাবমার্শিবল পাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুতে ছাড় দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সেচের খরচ কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি আয়ের সুরক্ষার লক্ষ্যে অন্নপূর্ণা আয় সংরক্ষণ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আলু চাষিদের জন্য কোল্ডস্টোরেজ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। রাজ্যের বহু জেলায় আলু উৎপাদন বেশি হলেও সংরক্ষণের অভাবে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। নতুন কোল্ডস্টোরেজ তৈরি হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে।

Related Articles