সিঙ্গুরে ‘পট্যাটো করিডর’, আশায় বুক বাঁধছেন কৃষক-ব্যবসায়ীরা
শুধু সিঙ্গুর নয়, তারকেশ্বর, হরিপাল, পাণ্ডুয়া, বলাগড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু কৃষক আলু চাষের উপর নির্ভরশীল।
Truth of Bengal: রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: রাজ্যের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদন কেন্দ্র হুগলির সিঙ্গুরকে ‘পট্যাটো করিডর’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। সরকারের এই ভাবনায় নতুন আশার আলো দেখছেন সিঙ্গুরের কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিঙ্গুরে আলু-কেন্দ্রিক কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। কলকাতা থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিঙ্গুর ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সড়ক দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, রাজ্য সড়ক এবং রেলপথের সংযোগ থাকায় এখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সহজেই আলু সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
শুধু সিঙ্গুর নয়, তারকেশ্বর, হরিপাল, পাণ্ডুয়া, বলাগড়-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু কৃষক আলু চাষের উপর নির্ভরশীল। অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। সিঙ্গুরের আলুর চাহিদা কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও শহরতলির বাজারে বরাবরই বেশি। তবে অতীতে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর উপর নিষেধাজ্ঞার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর সিঙ্গুরকে ‘পট্যাটো করিডর’ হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনায় খুশি কৃষক মহল। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আলু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
এর ফলে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রসঙ্গে সিঙ্গুরের বিজেপি বিধায়ক ডঃ অরূপ দাস বলেন, ‘আগামী দিনে সিঙ্গুর আলু-ভিত্তিক শিল্পহাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই উপকৃত হবেন।’ কৃষক মহলের মতে, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিঙ্গুর নতুন করে রাজ্যের কৃষি মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।






