লালমাটির দেশ বীরভূমের প্রাচীন শৈবক্ষেত্র, মল্লারপুরের মল্লেশ্বর শিবমন্দির
প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকলে ডানদিকে রয়েছে পাথরের তৈরি প্রাচীন মন্দিরের অংশ
Truth of Bengal: গোটা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানান সুপ্রসিদ্ধ জাগ্রত শৈবক্ষেত্র। দেশব্যাপী এসব শৈবস্থানের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে আছে। মন্দিরময় বাংলায় লালমাটির দেশ বীরভূম জেলায় মল্লারপুরে রয়েছে প্রাচীন শৈবক্ষেত্র মল্লেশ্বর শিবমন্দির। চারিদিকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা মন্দির চত্বরে রয়েছে ২৪টি আলাদা আলাদা রীতিতে নির্মিত মন্দির ও একটি নাটমন্দির। বেশির ভাগ মন্দিরই চারচালা। প্রধান প্রবেশপথের ওপরে নহবতখানা রয়েছে। প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকলে ডানদিকে রয়েছে পাথরের তৈরি প্রাচীন মন্দিরের অংশ। আর একটু এগোলেই দেখা যাবে নাটমন্দির।

তার দক্ষিণ দিকে রয়েছে মল্লেশ্বর শিবমন্দির ও সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। উত্তরমুখী মল্লেশ্বর শিবমন্দিরের সামনে ফুলপাথরের অলঙ্কার রয়েছে। গর্ভগৃহে দেবাদিদেব মহাদেব পূজিত। মনে করা হয়, পাণ্ডব জননী কুন্তী এই মহাদেবের পুজো করতেন। ১১২৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা মল্লনাথ মন্দির নির্মাণ করেন। মহালিঙ্গেশ্বর তন্ত্রে স্বয়ম্ভূ শিবমন্দিরের তালিকায় মল্লেশ্বরের নাম রয়েছে। এখানকার শিবলিঙ্গে সাধকদের সাধনায় ওঁ চিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই চিহ্নেই মহাদেবের ত্রিনয়ন রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস।
মল্লনাথ শিবমন্দিরের পাশে রয়েছে বাংলা শিল্প শৈলীতে নির্মিত সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। মন্দিরের গর্ভগৃহ একটি আটকোণা মন্দির। দেবী সিদ্ধেশ্বরী কালী নিত্য পূজিতা। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন দেবী তারাপীঠের মা তারার বোন। মন্দির চত্বরে রয়েছে কৃষ্ণানন্দ আগমবীশের ইচ্ছাসমাধি। রথযাত্রা, শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসে গাজন উৎসব বড়ো করে পালন করা হয়। সিদ্ধেশ্বরী দেবীকে মল্লেশ্বর শিবের শক্তিস্বরূপা বলা হয়। মন্দিরের নহবত খানায় আজও সকাল সন্ধ্যা সানাইয়ের সুর শোনা যায়। রাজার আমল থেকে সানাইয়ের সুরে ভোগ আরতির সময় জানান দেওয়া হয়ে আসছে।
কীভাবে যাবেন?
রামপুরহাটগামী ট্রেনে চেপে মল্লারপুর স্টেশনে নেমে টোটো করে মল্লেশ্বর শিবমন্দিরে যাওয়া যায়। সিউড়ি বা রামপুরহাট থেকে বাসে মল্লারপুর শিববাড়ি স্টপেজে নেমে হেঁটে মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া যায়।


