তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ‘বেআইনি’ কোটি কোটি টাকা? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ খোদ দলেরই বিধায়কের!
আরও কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কও একই ধরনের অভিযোগ জানাতে পারেন পুলিশের কাছে
Truth of Bengal: তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে এবার নতুন করে রহস্য দানা বাঁধল। দলেরই এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে কি বেআইনি লেনদেনের ছাপ লুকিয়ে রয়েছে? সূত্রের খবর, অভিযোগকারী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। শুধু তিনি নন, আরও কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কও একই ধরনের অভিযোগ জানাতে পারেন পুলিশের কাছে। তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি লিখেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি দীর্ঘদিন দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ৫ জুন সাংগঠনিক রদবদলের পর তাঁর বদলে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। তবে ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে এখনও তাঁকে সই করার অধিকারী বা ‘সিগনেটরি’ হিসেবে পরিচয় করানো হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ব্যাঙ্কের নথিতে এখনও অরূপ বিশ্বাসের নামই কোষাধ্যক্ষ হিসেবে থাকতে পারে।
দল যখন ভাঙনের মুখে এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, তখন দলীয় অ্যাকাউন্টে লেনদেন চলতে থাকলে তা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন অরূপ। সেই কারণেই তিনি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান বলে জানা যায়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ওই একই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে পাওয়া টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা থাকতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ।
অভিযোগপত্রে তিনটি অ্যাকাউন্টের মালিক কারা, তা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে কয়েক বছর আগে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে একটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে রয়েছে। বাকি দু’টির একটি দলের ত্রিপুরা শাখা এবং অন্যটি গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। গোয়া তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ঘিরেও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল খরচ নিয়ে তখনই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল। ৪০ আসনের বিধানসভায় ২৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। পরে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়, প্রচার খাতে খরচ হয়েছিল ৪৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। যদিও একটি আসনও জিততে পারেনি দল। তুলনায় গোয়ায় ২০টি আসনে জয়ী বিজেপির নির্বাচনী খরচ ছিল ১৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। তৃণমূলের হয়ে ওই নির্বাচনে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক। ইডি-র অভিযোগ ছিল, গোয়া নির্বাচনের সময় কয়লা পাচারের বিপুল টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল। সেই মামলায় আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনও।






