টানা তিন বার এড়ানোর পর অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস
গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই মেসি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহল তোলপাড়।
Truth of Bengal: মেসি বিতর্ক বা ‘মেসি কাণ্ডে’ অবশেষে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অরূপ বিশ্বাস। ইতিপূর্বে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন-তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান, যার ফলে রাজনৈতিক মহলে তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে জোর জল্পনা ও আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। এই টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ সশরীরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় গিয়ে হাজিরা দেন তিনি। বুধবার রাতেই লিওনেল মেসির ভারত সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রাক্তন মন্ত্রীর থানায় আসার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সকাল থেকেই থানা চত্বরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়, যার মাঝেই নিজের গোপন আস্তানা থেকে সোজা তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে পৌঁছন অরূপ বিশ্বাস।
গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই মেসি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহল তোলপাড়। রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সল্টলেক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ ছিল, মেসির কলকাতা সফরের সময় স্টেডিয়ামের মোট ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২২ হাজার টিকিট জোরপূর্বক নিজের দখলে নিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস এবং পরবর্তীকালে সেগুলি অন্যত্র চড়া দামে বিক্রিও করা হয়েছিল। এছাড়াও মেসির আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করার গুরুতর অভিযোগও আনা হয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। যদিও এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে রেখেছেন অরূপ বিশ্বাস, যার কারণে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তবে একই সাথে আদালত তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়ায় তিনি এদিন থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হন।
এদিকে অরূপ বিশ্বাসের এই জিজ্ঞাসাবাদের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বুধবারই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লিওনেল মেসির নিজস্ব আন্তর্জাতিক ম্যানেজমেন্ট টিম। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মেসির স্টেডিয়ামে উপস্থিতির সময় মাঠের ভেতর কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথির থাকার অনুমতি ছিল না, কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটর থাকতে পারতেন। কিন্তু তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে গায়ের জোরে মাঠে ঢুকে পড়েন এবং প্রোটোকল বহির্ভূত কাজ করেন। ছবি তোলার বাহানায় তিনি বারবার মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং মেসির কাঁধে ও কোমরে হাত দিয়ে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ফুটবল রাজপুত্রের টিমকে অত্যন্ত অস্বস্তিতে ফেলেছিল। মাঠের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই চরম গাফিলতি নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে কড়া ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মেসির টিম।






