কেন মমতার হাত ছাড়লেন ‘স্নেহধন্য’ সুদীপ? অবশেষে কারণ জানালেন প্রবীণ সাংসদ
অমিত শাহের সঙ্গে ১ ঘণ্টার গোপন বৈঠক! এখনও চিঠিতে সই করেননি সুদীপ
Truth of Bengal: ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের পর দিল্লির বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে যে মহাধস নেমেছে, তা এখন চূড়ান্ত ট্রেলারে রূপ নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ছায়াসঙ্গী তথা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee) অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পা বাড়িয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে। আগামিকাল, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে এনডিএ (NDA)-র শরিক হতে চেয়ে আবেদন জানাতে যাওয়ার কথা কমপক্ষে ২০ জন তৃণমূল সাংসদের, যাঁরা ইতিমধ্যেই দিল্লির বঙ্গভবনে একজোট হয়েছেন। তবে এই মেগা দলবদলের ঠিক মাঝেই রবিবার দুপুরে দিল্লির বুক থেকে বিস্ফোরক সব তথ্য ফাঁস করলেন খোদ উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান সাংসদ।
“১০ মিনিটের বৈঠক চলল ১ ঘণ্টা!”, শাহের মন্ত্রে দীক্ষিত সুদীপ
এদিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি স্বীকার করে নেন যে, দলনেত্রীকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে কতটা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, “দলের অধিকাংশ সাংসদ-বিধায়কের একটাই ইচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা বা মেন্টর হয়ে থাকুন। তাঁদের এই আবেগঘন আবেদন আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। চারদিক থেকে এত চাপ আর অনুরোধ আসছিল যে আমিও খুব বেসামাল হয়ে পড়েছিলাম।”

এর পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সুদীপবাবু জানান, “আমি ভেবেছিলাম অমিত শাহের সঙ্গে হয়তো বড়জোর ১০ মিনিটের একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে। কিন্তু বৈঠক শুরু হতেই পরিবেশ বদলে যায়, শেষ পর্যন্ত টানা ১ ঘণ্টা ধরে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।”
“এখনও সই করিনি, শুভেন্দু এলে করব!”
বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবচেয়ে বয়োঃজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তিনিই কি লোকসভায় এই নতুন ফ্রন্টের দলনেতা হতে চলেছেন? সুদীপ অবশ্য বিনম্রভাবে তা অস্বীকার করে বলেন, “আমার দলনেতা হওয়ার কোনও ব্যক্তিগত ইচ্ছে নেই। কাকলি (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) প্রথম থেকে এই বিষয়ে খুব উদ্যোগ নিয়েছে।”

তবে রাজ্য তথা দিল্লির রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চমকটি সুদীপ দিয়েছেন চিঠিতে সই করার প্রসঙ্গে। প্রবীণ এই সাংসদ এক ধাক্কায় জল্পনা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “না, আমি এখনও স্পিকারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা ওই চিঠিতে সই করিনি। আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বলেছিলাম, তুমি নিজে দিল্লি এলে তবেই আমি এই চিঠিতে সই করব। শুনলাম আজ রবিবার রাতেই শুভেন্দু দিল্লিতে এসে পৌঁছাবে। রাতে আমাদের একটা যৌথ নৈশভোজ বা ডিনার রয়েছে, সেখানেই শুভেন্দুর উপস্থিতিতে সই-সাবুদ পর্ব মিটতে পারে।” অর্থাৎ, দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তৃণমূলের ভাগ্য যে পুরোপুরি শুভেন্দু অধিকারীর গ্রিন সিগন্যালের ওপর ঝুলে রয়েছে, তা সুদীপের এই মন্তব্যেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।





