রাজ্যের খবর

তৃণমূল কাউন্সিলরকে রাস্তায় ফেলে ডিম-বৃষ্টি! বাঁচাতে গিয়ে পেটে লাথি খেলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী!

উত্তরপাড়ায় মাঝরাতে হাড়হিম করা কাণ্ড! ৩০-৪০টি বাইক ঘিরে ধরল তৃণমূল নেতাকে, চলল নির্মম অত্যাচার

Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতার অলিন্দে রদবদল ঘটলেও নিচুতলার রাজনৈতিক হিংসা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন মারধরের ঘটনা সামনে এল। প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অর্ণব রায় এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন কাউন্সিলরের গর্ভবতী স্ত্রী, এমনকি রেহাই পাননি তাঁর বৃদ্ধা মা-ও। এই ঘটনায় আক্রান্ত তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তরপাড়া থানায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। যদিও পদ্ম শিবির এই সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বাইক বাহিনীর তাণ্ডব, ছোড়া হল ডিম!

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই উত্তরপাড়া পুরসভার অন্তর্গত কাউন্সিলর অর্ণব রায়ের দলীয় কার্যালয়টি (পার্টি অফিস) বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার রাতে অর্ণববাবু তাঁর ভেঙে দেওয়া পার্টি অফিসের এলাকাটি পরিদর্শন করতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই আচমকা ৩০ থেকে ৪০টি বাইকে চড়ে একদল উন্মত্ত যুবক এসে অর্ণব রায়কে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে বাইক থেকে নামিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে কিল, চড়, লাথি মারা শুরু হয়, এমনকি তাঁর দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মুখ খুললেন মা

স্বামীর ওপর এমন নির্মম অত্যাচার হতে দেখে বাড়ি থেকে ছুটে আসেন অর্ণব রায়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। কাউন্সিলরের অভিযোগ, তাঁকে বাঁচাতে গেলে অর্পিতা রায় নামের এক স্থানীয় মহিলা তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মারেন! স্ত্রীর চিৎকার শুনে এরপর ছুটে আসেন কাউন্সিলরের বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা রায়। তিনি দুষ্কৃতীদের হাত থেকে ছেলেকে আড়াল করার চেষ্টা করলে তাঁকেও চরম হেনস্তা করা হয়।

কান্নায় ভেঙে পড়ে সন্ধ্যাদেবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “৩০-৪০ জন মিলে আমার ছেলেকে পশুর মতো মারছিল। ও কোনও ভুল করেনি। আমি গিয়ে হাতজোড় করে বলি, কোনও ভুল থাকলে আইন শাস্তি দেবে, তোমরা মারছ কেন? আমি ঠিক সময়ে না পৌঁছালে আজ হয়তো ছেলের মরদেহ দেখতে হত। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে বিচার চাইছি।”

দায় ঝেড়ে ফেলল বিজেপি

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাউন্সিলর অর্ণব রায় থানায় অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “বিজেপির গৌতম মাজি এবং অর্পিতা রায়ের নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে। ওরা চিহ্নিত দুষ্কৃতী।”

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা গৌতম মাজি ফোনে জানান, “ওখানে কী হয়েছে আমি জানি না। এটা ওদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল নাকি তোলাবাজি নিয়ে সাধারণ মানুষের জনরোষ, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলামই না। কোনও প্রমাণ থাকলে দেখাক। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপাড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।

Related Articles