“ও একটা বোঝা, লায়াবিলিটি!” সুদীপের দিল্লি যাত্রা নিয়ে বিস্ফোরক তাপস রায়
অতীতেও উত্তর কলকাতায় সুদীপ-তাপস দ্বৈরথ বহুবার বঙ্গ রাজনীতির শিরোনামে এসেছে।
Truth of Bengal: তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের আবহে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় এবার বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়াতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আর এই দলবদল জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই সুদীপকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তথা বর্তমান তাপস রায়। অতীতেও উত্তর কলকাতায় সুদীপ-তাপস দ্বৈরথ বহুবার বঙ্গ রাজনীতির শিরোনামে এসেছে। এবার সুদীপের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর একদা সতীর্থ সাফ জানিয়ে দিলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছে একটা ‘বোঝা’ ছাড়া আর কিছুই নন।
উত্তর কলকাতার প্রাক্তন বিধায়ক তথা হেভিওয়েট তাপস রায় চাঁচাছোলা ভাষায় সুদীপের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “ওর কোনও রাজনৈতিক গুরুত্বই নেই। ওকে কোনওদিন আমি গুরুত্ব দিই না এবং দেবও না।” দলবদলের পরেও সুদীপের প্রতি তাপস রায়ের সেই পুরনো ঝাঁঝ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। সুদীপের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ও যেখানেই থাকুক, যেদিকেই পা বাড়াক না কেন, ও আসলে একটা বোঝা (লায়াবিলিটি)। সুতরাং, এই বোঝা যার টানার সে-ই বুঝুক।”
এখানেই থেমে না থেকে তাপস রায় সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র নিশানা করেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর সংযোজন, “এই ধরণের বোঝা বইতে তো ভালবাসেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেশিরভাগ সময় তো এই ধরণের বোঝা বয়েই পার করেছেন। তাই সুদীপকে নিয়ে এটা নতুন কিছু নয়।” তাপস রায়ের দাবি, এই ধরণের বড় বড় রাজনৈতিক বোঝা টানার খামখেয়ালিপনার খেসারত আজ পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। আর এই ভুল অভ্যাসের জেরেই আজ তৃণমূল সরকার ও খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চরম রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে দলটা আজ কার্যত উঠে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্দরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যে চাপা অসন্তোষ এতদিন ধরে চলছিল, সুদীপের সাম্প্রতিক দিল্লি যাত্রার পর তাপস রায়ের এই বিস্ফোরক বয়ান তাতে ঘি ঢালার কাজ করল। উত্তর কলকাতার দুই হেভিওয়েট নেতার এই চিরন্তন সংঘাত একসময় একই দলে থাকার সময়ও চর্চায় থাকত, আর এখন দুজনে ভিন্ন মেরুতে থাকায় তা আরও ধারালো রূপ নিল। এখন দেখার, পুরনো সতীর্থ তথা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই তীব্র ও কড়া আক্রমণের জবাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না।






