দেশ

মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে সুদীপ! ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক ঘিরে জল্পনা

তৃণমূলের অন্য এক বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায় স্বয়ং তাঁর গাড়িতে করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের ৯, মতিলাল নেহরু রোডের বাড়িতে যান।

Truth of Bengal: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এক চরম একাকীত্বের আবহ তৈরি করে এবার বিরোধী বা বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন তাঁর দীর্ঘকালের বিশ্বস্ত সেনাপতি তথা উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকে দল যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভাঙছে, তাতে শনিবারের এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করল। রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির খবর চড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা ও নাটকীয়তা এখন তুঙ্গে।

রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে, এদিন তৃণমূলের অন্য এক বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায় স্বয়ং তাঁর গাড়িতে করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের ৯, মতিলাল নেহরু রোডের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এই নতুন সমীকরণের জেরে লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বা বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা ১৯ থেকে বেড়ে এক ধাক্কায় ২০ হতে চলেছে বলে জোর গুঞ্জন। জানা গেছে, শনিবারের প্রাথমিক আলোচনার পর রবিবারই সুদীপের এই দলবদল বা নতুন পথচলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আগামী সোমবার সমস্ত বিদ্রোহী সাংসদ একজোট হয়ে সংসদে লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় ঘাসফুল শিবিরে আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি ফাটল ধরেছে। ইতিমধ্যেই দলের ৮০ জন বিধায়কের একটি বিরাট অংশ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি তুলে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছেন। তাঁরা বিধানসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রধান বিরোধী দলের তকমা পাওয়ার আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। বিধানসভার সেই রেশ কাটার আগেই এবার দলের সংসদীয় তথা লোকসভা গ্রুপেও বড়সড় ধস নামল। দলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন এনডিএ জোটকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বলে খবর, যার সঙ্গে এবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জুড়তে চলেছে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন দীর্ঘ কয়েক দশকের। মাঝখানে রোজভ্যালি ও সারধার মতো চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোয় তাঁকে বেশ কিছুদিন জেলে কাটাতে হলেও, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মমতা তাঁকে সসম্মানে লোকসভায় দলের দলনেতার গুরুদায়িত্ব সঁপে দেন। এমনকি দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দলের সুসম্পর্ক ও সমন্বয় বজায় রাখার মূল চাবিকাঠিও ছিল সুদীপের হাতেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী ও নিচুতলার নেতৃত্ব। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই নেতার মনে জমে থাকা সেই অভিমান আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই কি তাঁকে আজ মমতার পাশ থেকে সরিয়ে অন্য শিবিরের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করাল, এখন সেটাই বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related Articles