ভবানী ভবনে হাজিরা এড়াতেই কালীঘাটে সিআইডি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঢুকে নজিরবিহীন পদক্ষেপ
বাইরে থেকেই পুরো প্রক্রিয়ার ক্যামেরাবন্দি বা ভিডিওগ্রাফি করার কাজ সচল রেখেছেন তাঁরা
Truth of Bengal: তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল মামলার তদন্তে এবার নাটকীয় মোড়। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার সিআইডি (CID) হাজিরা এড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে গেলেন রাজ্য গোয়েন্দারা। ভবানীভবনে যাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় চেয়ে অভিষেক চিঠি পাঠানোর পরই সিআইডি-র একটি বিশেষ দল তাঁর বাড়ির সামনে হাজির হয়। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার অগ্রগতির স্বার্থে এবং তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে কোথাও কোনও ‘খামতি’ রাখতে চান না তাঁরা। সেই কারণেই স্পটে গিয়ে গোটা বাড়ি ও পারিপার্শ্বিক এলাকার ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সিআইডি আধিকারিকেরা কালীঘাটের শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছালেও দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁরা বাড়ির ভেতরে ঢোকার অনুমতি পাননি। অভিষেকের নিরাপত্তারক্ষী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা আধিকারিকদের বাড়ির বাইরেই অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে বাইরে থেকেই পুরো প্রক্রিয়ার ক্যামেরাবন্দি বা ভিডিওগ্রাফি করার কাজ সচল রেখেছেন তাঁরা।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়কদের সইয়ে গরমিল বা জালিয়াতি ধরা পড়ার অভিযোগে বিধানসভার সচিব একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার তদন্তেই সোমবার দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর চোয়ালের চোট ও শরীরের কালশিটে দাগের কারণে অভিষেক আজ হাজিরা দিতে পারবেন না বলে আইনজীবীদের মারফত সিআইডি-কে চিঠি পাঠান। বর্তমানে বাড়িতেই হাসপাতালের মতো পরিকাঠামো তৈরি করে কড়া পেনকিলারের পর্যবেক্ষণে বিশ্রামে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এই শারীরিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই মূলত ১৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র এই হাজিরার নোটিসটি গ্রহণ করেছিলেন অভিষেক। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং ইট ছোড়ে, এমনকি তাঁর জামা ছিঁড়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মাথায় হেলমেট থাকায় বড়সড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান তিনি।




